বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা এ দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। বিচারব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সব বিভাগ ধ্বংস করে গেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। নিজেরা নিজেরা ভোট করে তারা সরকার গঠন করেছে।
রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা বাস্তবায়নে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা, লাকসাম পৌরসভা ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে লাকসাম স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, লাকসামের হিরু-হুমায়ুনসহ ৭৫০ নেতাকে গুম করা হয়েছে। তাদের সন্তানরা এখনো চোখের পানি ফেলছে। আওয়ামী লীগের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে লাকসামের মানুষ। যারা অপকর্ম করে, তারা এখানকার এমপি তাজুল ইসলামের মতো, শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ গড়ার জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই, আমাদের মধ্যে কেউ বিভেদ সৃষ্টি করবে না। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করছি, করব। এ সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। আমরাও সংস্কার চাই। তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ সংস্কার বুঝে না। তারা বুঝে মোটা চাল, আর মোটা কাপড়।
ফখরুল অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অনতিবিলম্বে নির্বাচন দিন। আর কালক্ষেপণ করবেন না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাব। দেশের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার জন্য একটি স্থিতিশীল সরকার জরুরি।’
এদিকে জনসভায় প্রধান বক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না। দু-চারজন নাবালক উপদেষ্টার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না।’ তিনি বলেন, একাত্তরে শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন আর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপন করেন। ওই ক্রান্তিকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের হাল ধরেন। শেখ মুজিবের পরিবারের কেউ এবং আওয়ামী লীগের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকলে আমি হিজরত করে চলে যাব। যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে না, তারা এ দেশে ভোট চাওয়ার অধিকার রাখে না। তিনি বলেন, ‘ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।’