২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আতিউরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জনতা ব্যাংকের ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন জাল কাগজ  তৈরি করে সেগুলো সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ক্রয়কৃত জমিকে ৬০৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা আত্মসাৎ করেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন ও পরিচালক আবু তালহা, জনতা ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক আজমুল হক, সাবেক এজিএম অজয় কুমার ঘোষ, সাবেক ব্যবস্থাপক (শিল্প ঋণ-১) গোলাম আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, এসইও এমদাদুল হক, সাবেক ডিজিএম আব্দুল জব্বার, সাবেক জিএম গোলাম ফারুক, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক, অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইউনূছ বাদল, জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত, সাবেক পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, ইমদাদুল হক, নাগিবুল ইসলাম দীপু, ড. আর এম দেবনাথ, আবু নাসের, মিসেস সঙ্গীতা আহমেদ, অধ্যাপক ড. নিতাই চন্দ্র নাথ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সহকারী পরিচালক আমত আরা বেগম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন ও পরিচালক আবু তালহা কারখানা স্থাপনের জন্য ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার জমি ক্রয় করেন। পরে সেই জমির মূল্য ৬০৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা দেখান এবং সেই জমিতে কারখানা স্থাপন না করেই কারখানা আছে উল্লেখ করে জনতা ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক সেই আবেদন পাঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে। প্রধান কার্যালয়ের ডেপুটি গভর্নর-২ আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও গভর্নর আতিউর রহমান ঋণ আবেদনকারী নতুন ও নামসর্বস্ব ব্যবসায়ী জেনেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইউনূছ বাদল মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং মিলস গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। মামলার তদন্তকালে অর্থ আত্মসাতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের চার্জশিটভুক্ত করা হবে।