রাতের ভোটের এসপিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের রাতের ভোটের সময় দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সুপারদের (এসপি) (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনে ৬৪ জেলার দায়িত্বে থাকা এসপিদেরও ওএসডি অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে।

এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ওএসডি করেছে সরকার। একই কারণে ১২ জন কর্মকর্তা এর আগে ওএসডি হয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২২ জন ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর পাশাপাশি ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হওয়া ফাইজুলসহ ৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকেও চাকরিচ্যুত করা হয়।

এছাড়া, গত বুধবার ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জন ডিসিকে ওএসডি করা হয়। এই ৩৩ জন যুগ্মসচিব পদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এর আগেও একই কারণে ১২ জন কর্মকর্তাকেও ওএসডি করা হয়েছিল।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। ১৪-এর নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সে নির্বাচন বর্জন করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়।

২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও অনেক প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। সেই নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একচেটিয়াভাবে নির্বাচন করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি, জালভোট, কেন্দ্র দখল, ভোটে বাধা দেওয়া ইত্যাদি অভিযোগও ওঠে। সেই নির্বাচনে ২৫৮টি আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ।