রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদী হাসান বলেন, দুটি মামলাতেই অভিযানকালে গ্রেপ্তার পাঁচজনসহ পলাতক অজ্ঞাত আরও ২০-২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়। পরে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন জুম্মন (২৫) ও মিরাজ হোসেন (২৬)। এ সময় অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেনÑ মো. মিরাজ (২৫), আল-আমিন (২৪), মোহাম্মদ হোসেন (২৩), মোমিনুল (২০) ও মেহেদি হাসান (১৯)। গত বুধবার গভীর রাতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি চলার তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ৫ নম্বর রোডের এক বাড়িতে অভিযানে যায় যৌথ বাহিনী। সে সময় বাহিনীর সদস্যরা একটি গলির দুই পাশ ঘেরাও করলে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি করে।
আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনী আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাঁচ সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করে। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ছাদের ওপর থেকে জুম্মন ও মিরাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, গুলি ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, দুজন নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আর আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। জুম্মন ও মিরাজের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবারই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা ছিল বলেও জানান এডিসি রানা। পুলিশ জানায়, নিহত জুম্মনের দুটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া গেছে। একটি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, আরেকটি মোহাম্মদপুরের শাহজালাল হাউজিং। তার বাবার নাম আবদুস সাত্তার। আর মিরাজের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে। বাবার নাম মো. শাহজাহান।