আশুলিয়া গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন গৃহকর্তার মৃত্যু 

আশুলিয়ার কাঠগড়া চালাবাজার এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ গৃহকর্তা মো. জাহাঙ্গীর (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের শিশু কন্যা এখনো জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মো. জাহাঙ্গীরের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৯১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছিল। এরপর মধ্য রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এছাড়া তার স্ত্রী বিউটি আক্তারে শরীরের ৩৩ শতাংশ দগ্ধ ও তার সন্তানের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ। তাদের শ্বাসনালীও পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি। 

নিহত জাহাঙ্গীর জিরাবোতে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র অপারেটর ছিলেন। তার স্ত্রী স্থানীয় জুতা ও ব্যাগ তৈরি কারখানায় চাকরি করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে তাহা একটি মাদ্রাসায় পড়ে।

দগ্ধ জাহাঙ্গীরের সহকর্মী হাসিব মাহমুদ জানান, ৩ তলা বাড়িটির নিচ তলায় ভাড়া থাকতো পরিবারটি। সহকর্মী হাসিবও পাশের বাসায় থাকেন। রবিবার সকাল ৬ টার দিকে বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। এরপর জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে কান্না ও চিৎকার শুনতে পান। দৌড়ে গিয়ে দেখেন, জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী শরীর ঝলসানো অবস্থায় বাসার বাইরে দাঁড়িয়ে ছটফট করছেন। তাদের শিশুটিকে এর আগেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসিব দম্পতিকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তিনজনকেই ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি।

অন্যদিকে একইদিন সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর নালিয়াসুর এলাকার নায়েব আলীর ১তলা বাড়ির একটি কক্ষে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের আগুনে দগ্ধ শিশুসহ ৭ জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। 

অগ্নিদগ্ধরা হলো সুজাত মোল্লা (২৬), হালিমা বেগম (৪২), জিসান (২০), শিল্পী আক্তার (৩৫, আমেনা বেগম (৬০) এবং সজীব (৭)। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের একজনের ৬০ শতাংশ, একজনের ৪১ শতাংশ এবং একজনের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে।