হিযবুত তাওহীদ কর্মীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় হিযবুত তাওহীদের কর্মীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা সংগঠনটির সদস্যদের চারটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হিযবুত তাওহীদের সাত কর্মীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদাহ সিদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগদাহ সিদাম এলাকার জিল্লাল হোসেন, তসলিম উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিন, আবদুল কুদ্দুস শামীম, কালা মিয়া ও লাল চান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হিযবুত তাওহীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংগঠনটির কর্মীরা ২৫ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে আবদুল কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে ৩০-৩৫ জন বহিরাগত এসে গোপন বৈঠক করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী গিয়ে বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উত্তেজিত জনতা হিযবুত তাওহীদের সদস্যদের চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে রংপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

ঘটনাস্থলে হিযবুত তাওহীদের সদস্যদের কয়েকজনকে পাওয়া গেলেও তারা গুরুতর আহত হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরী বলেন, হিযবুত তাওহীদের প্রায় ৩০-৩৫ সদস্য সোমবার সকালে ওই এলাকার একটি বাড়িতে গোপন বৈঠকের চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় হিযবুত তাওহীদের সাত কর্মীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হক সুমন বলেন, মঙ্গলবার হিযবুত তাওহীদের একটি সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বর্তমানে পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।