যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের যেসব কর্মী কাজের বর্ণনা দিয়ে ই-মেইলের জবাব দেবেন না, তাদের নতুন করে হুমকি দিয়েছেন ইলন মাস্ক। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ই-মেইলের অনুরোধটি ছিল তুচ্ছ। কিন্তু অনেকে এই তুচ্ছ পরীক্ষা উত্তরণে ব্যর্থ হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য কর্মীদের ব্যবস্থাপকরা জবাব না দিতে বলেছেন। মাস্ক আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের বিচক্ষণতা সাপেক্ষে কর্মীদের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়বার ই-মেইলের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে চাকরিচ্যুত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩ লাখ ফেডারেল কর্মী বাহিনীর আকার কমানো এবং তা ঢেলে সাজাতে চান। এজন্য তিনি সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) চালু করেছেন। যার দায়িত্ব পেয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠা মাস্ক। তবে মাস্কের এমন হুমকির বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মন্তব্য জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পায়নি।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ফেডারেল সরকারের কর্মীদের একটি ই-মেইলের মাধ্যমে কার্যবিবরণী জানাতে বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের মানবসম্পদ ঠিকানা দিয়ে এই ই-মেইল পাঠানো হয়। তাতে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে কর্মীদের আগের সপ্তাহের কাজের হিসাব দিতে বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, শিক্ষা, বাণিজ্য, ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের মাস্কের ই-মেইলের জবাব না দিতে পরামর্শ দেয়।
এদিকে, মাস্ক নতুন হুমকি দিলেও তিনি অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) নির্দেশনার বিষয়ে জ্ঞাত কি না, তা স্পষ্ট নয়। সোমবার ওপিএম ফেডারেল সংস্থাগুলোর মানবসম্পদ কর্মকর্তাদের বলেছেন, মাস্কের ই-মেইলের জবাব না দিলে কর্মীদের বরখাস্ত করা হবে না। কর্মীদের এই ই-মেইলের জবাব দেওয়াটা আবশ্যক নয়। ওপিএমের স্মারকে বলা হয়েছে, ই-মেইলের জবাব দেওয়াটা ঐচ্ছিক বিষয়। যদি কোনো কর্মী ই-মেইলের জবাব দেনও, তাহলে তারা যেন গোপনীয়, সংবেদনশীল বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য না জানান।