সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল তলানিতে। তবে নতুন ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছে। তার ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নানা বিষয়ের পাশাপাশি ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির বিষয়টিও উঠে আসে।
গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবরাজ খালিদের আনুষ্ঠানিক সফর ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যুবরাজ খালিদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজের সঙ্গেও দেখা করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও দেখা করবেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বৈঠকের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। বিবৃতি বলা হয়, হেগসেথ ও যুবরাজ খালিদ দুই দেশের স্বার্থরক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীরে নিতে এবং এর সম্প্রসারণ ঘটাতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। হেগসেথ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রাধান্যের বিষয়ে যুবরাজ খালিদের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে, অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে হুতি বিদ্রোহীদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিঘœ সৃষ্টির সক্ষমতা কমাতেও দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
হেগসেথ প্রয়োজনের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি সেনাবাহিনীর একে অন্যের পাশে থাকার সক্ষমতাকে জরুরি বলে অভিহিত করেন। এই বন্দোবস্তকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পেন্টাগন আরও জানায়, যুবরাজ খালিদের সৌদি সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন হেগসেথ।
এদিকে, ইরানকে সর্বোচ্চ চাপে রাখতে দেশটির তেল খাতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে নিযুক্ত আট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের ইরানকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। ইরানের ক্ষমতাসীনরা এখনো পরমাণু হুমকি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প ও জঙ্গি সংগঠনদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখে বিশ^ নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।