বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের প্রতিটি কাঠামো ধ্বংস করে গিয়েছে। মানুষের ভাগ্য ফিরিয়ে আনতে হলে দেশে স্থিতিশীলতা আনা প্রয়োজন। কিন্তু, অন্তর্র্বর্তী সরকারের কিছু কিছু লোকের বক্তব্যে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা এখনো এই সরকারকে সাহায্য করব। আশা করব, অন্তর্র্বর্তী সরকারের কাছে মানুষ যে নিরপেক্ষতা আশা করে, তারা সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে মঙ্গলবার বিকেলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। কুমিল্লা টাউন হল মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টায় তিনি বক্তব্য শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা লক্ষ করছি। যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের হারিয়ে যাওয়া ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবার প্রশ্নে আমরা লক্ষ করছি, এই সরকারের বিভিন্ন জন ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মতপার্থক্য নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও গণতান্ত্রিক দলগুলো। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যত বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকব তত বেশি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পনাকারীদের ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত হলে কারা সুবিধাপ্রাপ্ত হবে এটা দেখার বিষয়। জনগণের ভোট যেহেতু ক্ষমতার নির্ণায়ক, সেহেতু গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখলেই দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে নিরাপদ রাখা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশে যদি ভোটের অধিকার নিশ্চিত থাকে, তাহলে বিএনপিও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে মতপ্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৫/৪৬ বছর ধরে ছয়টি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে, এবং মধ্য দিয়ে, গায়েবি ও মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করে বিএনপি আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোনো নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল, কোনো নির্বাচনে বিএনপি বিরোধীদলীয় হয়েছে বিরোধী দল।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হলো কীভাবে জনগণকে নিজের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখবে। পরিকল্পনা থাকে, কীভাবে সরকার গঠন করবে। আর এর একমাত্র উপায় হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠন করা। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণের কাছে যাওয়া। আমরা যেহেতু জনগণের শাসনে বিশ্বাস করি, ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, তাই আমরা ভোট চাইব, নির্বাচন চাইব এটিই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়টিই অনেকে মানতে চাচ্ছেন না।
মহানগর বিএনপির নবগঠিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আবু-টিপুকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে কুমিল্লা মহানগরীর সাধারণ মানুষের আস্থা দলের ওপর আনতে কাজ করতে হবে। কুমিল্লা মহানগরীর প্রতিটি মানুষের কাছে দলের আদর্শ ও নীতি পৌঁছে দিতে কাজ করতে হবে। তারেক রহমান বলেন, কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ করব, আমরা শুধু কুমিল্লা মহানগরী নয়, সমগ্র দেশে যে দাবি আদায়ের জন্য আমাদের হাজার হাজার সহকর্মী গুম, খুন, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে সেই দাবি আমাদের আদায় করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বরকত উল্যাহ বুলু বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন দিন। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতার কারণে এরশাদের পতন হয়েছিল। বাংলাদেশের একমাত্র বৃহত্তম দল হচ্ছে বিএনপি। তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না এ দেশে তাদের নির্বাচন করার অধিকার নেই।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগ সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, দক্ষিণ জেলার বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা বিভাগ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি মোস্তাক মিয়া, অ্যাডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন, ভিপি আসিকুর রহমান ওয়াসীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজি জসিম উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আনির, ভিপি জসিম উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা দেন।