শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলে একটা নৈরাজ্যের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে এ নৈরাজ্যের দিকে নিচ্ছে।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যোগসূত্রে দুদিন ধরে পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের কাছে এ আহ্বান জানাতে চাই, আপনি শক্ত হাতে সরকারকে পরিচালিত করুন। এ কথা কেউ যেন না বলে, আপনি পক্ষপাতিত্ব করছেন। সেটা আমি শুনতে চাই না। কারণ আপনি প্রতিষ্ঠিত একজন বিখ্যাত মানুষ, সারা বিশ্বে আপনার নাম আছে। সেটা মনে রাখবেন আপনি, সেটাই আমরা আশা করি আপনার কাছ থেকে। আমরা আশা করব যে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার যেটা ন্যূনতম প্রয়োজন, সেটাকে সম্পন্ন করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও ভবিষ্যতের জন্য সমৃদ্ধি আনবেন। এটাই আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে, তর্ক বন্ধ করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন, যেন ঐক্যবদ্ধ থাকার মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক জায়গায় পৌঁছাতে পারি। আজ আমাদের বাংলাদেশে যে পরিবর্তন হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার। সেই সুযোগ আজ আবার ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। শেখ হাসিনা আশ্রয় নিয়েছেন দিল্লিতে। সেখান থেকে তিনি চক্রান্ত করছেন, পরিকল্পনা করছেন কী করে এ গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের সব ফলকে নস্যাৎ করে দেওয়া যায়। সেখান থেকে চক্রান্ত করছেন বাংলাদেশে কী করে আবার নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যায়, একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা যায়। তারই চক্রান্ত হিসেবে আমরা দেখছি আজ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পক্ষ থেকে একটা অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আসা একটি সরকার। প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের আশা, এ সরকার জনগণের আশা পূরণ করবে। আমরা বারবার করে এ কথা বলে আসছি, যে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না করলে কোনোমতেই আমরা একটি স্থিতিশীল অবস্থা পাব না। সেই প্রথম থেকেই বলে আসছি, প্রকৃতপক্ষে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটার জন্যই আমাদের আন্দোলন করেছি দীর্ঘদিন ধরে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ সেই জায়গায় বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলে একটা নৈরাজ্যের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছুসংখ্যক মানুষ অন্যায়ভাবে দেশকে, দেশের মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলার চেষ্টা করছেন। বিভিন্নভাবে সবাইকে রাস্তায় নিয়ে জড়ো করার চেষ্টা করছেন এবং দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এটা কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শুভ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ কথা বারবার করে বলছি, অনেকে আমাদের সমালোচনা করে বলার চেষ্টা করছে আমরা নাকি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করছি। আমরা সংস্কার করতে চাই না। এত বড় মিথ্যা কথা, মিথ্যা প্রচারণা তারা চালাচ্ছে বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কয়েকজন মানুষ টার্গেট করেছে বিএনপিকে। তারা মিথ্যা প্রচার-অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন করতে চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের শক্তি। সবসময় দেখেছি, জাতির দুঃসময়ে তারা এগিয়ে আসে। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ করেছে, গণহত্যা করেছে সে সময় সেনাবাহিনীর এক অখ্যাত মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করে পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। আবার ৭ নভেম্বর এই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। এবার ‘২৪’ও সেনাবাহিনী একটি দেশপ্রেমিক বাহিনীর ভূমিকা পালন করেছে।”

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

এ ছাড়া গতকাল সকালে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যোগসূত্রে দুদিন ধরে পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। দিনটি সেনাবাহিনীর জন্য কালো দিন। সেনাবাহিনীর শত্রুরা সেদিন ৫৭ জন চৌকস সেনাকে হত্যা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘দিনটিকে জাতীয় দিবস করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। নিহত সেনাসদস্যদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আশা করব, এটার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা স্বাধীনতার প্রশ্নে যেন আপস না করি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।