খেয়ালখুশিমতো আসেন চিকিৎসক-কর্মচারীরা

পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত উপজেলা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর। দুর্গম এ উপজেলার চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোটাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মতো চিকিৎসক ও কর্মচারীরা আসেন না। আবার কোয়ার্টারে থাকা অনেকেই সকালে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। এসব কারণে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিটিজেন চার্টারে বহির্বিভাগের সেবা সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেখা থাকলেও ভবনের গেট খোলা হয় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। ৮টা ৪৮ মিনিটে ফার্মেসি খোলেন ফার্মাসিস্ট বীরেন্দ্র কুমার ম-ল। ৮টা ৫৩ মিনিটে টিকিট কাউন্টার খোলেন অফিস সহকারী সাইদুর রহমান। অনভিজ্ঞ সাইদুর রহমান ঠিকমতো টিকিট দিতে না পারায় কাউন্টারের সামনে রোগীর ভিড় লেগে যায়।

এ সময় সাইদুর রহমান বলেন, টিকিট কাউন্টারে যিনি বসেন, তিনি ছুটিতে আছেন। প্রিন্টারে সমস্যার কারণে হাতে লিখে টিকিট দিচ্ছেন তিনি।

সকাল ৮টা ৪১ মিনিটে হাসপাতালে আসেন নার্স ঝর্ণা আক্তার। ৮টা ৪২ মিনিটে তড়িঘড়ি করে আসেন অফিস সহায়ক রজ্জব আলী খান। ৮টা ৫৫ মিনিটে ১১২ নম্বর রুমে রোগী দেখতে আসেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সোহেল রানা। তা ছাড়া সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে মেডিকেল অফিসারের রুমে প্রবেশ করেন ডা. কাবেরী দাস। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে প্রবেশ করেন ডা. পলাশ চন্দ্র সূত্রধর। তিনি আসার পর সেখান থেকে চলে যান ডা. কাবেরী দাস। ৯টা ৪৫ মিনিটে আসেন ল্যাব টেকনোলজিস্ট শ্যামাপ্রসাদ সরকার। ৯টা ৫৩ মিনিটে আসেন গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. মুর্শিদা খাতুন।

তবে ডিউটি থাকা সত্ত্বেও বেলা ১১টা পর্যন্ত আসেননি ইউনানি মেডিকেল অফিসার ডা. মোকছেদ আলী এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. তারেকুজ্জামান। মুঠোফোনে ডা. তারেকুজ্জামান বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই আসতে পারিনি।’ ডা. মোকছেদ আলী বলেন, ‘আমি আজ ছুটি নিয়েছি।’

ডাক্তার দেখাতে আসা সালেহা বেগম বলেন, ‘টিকিট কেটে বসে আছি। ডাক্তার এখনো আসেন নাই। তাই অপেক্ষায় আছি।’ সট্টি এলাকা থেকে আসা আয়শা বেগম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে এসে বসে আছি। কেউ এখনো আসেননি। হাসপাতালে ডাক্তাররা ঠিকমতো আসেন না। সকালে এসে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের।’

এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, ‘আজকে যারা দেরি করে এসেছেন, তাদের সবাইকে শোকজ করা হবে।’

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’