বিবাহ হলো একটি প্রচলিত সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দুজন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৈধভাবে বিপরীত লিঙ্গে দুজন মানুষ একসঙ্গে বসবাস এবং মানব ইতিহাস ধরে রাখা। মাঝে মাঝে কিছু সম্পর্কে তিক্ততা বা বিভিন্ন কারণে বিচ্ছেদের ঘটনা দেখা যায়। তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে এই বিচ্ছেদ প্রবণতা বেড়েছে কয়েক গুণ।
দাম্পত্য জীবনে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়া কিংবা মনোমালিন্য খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার এই সামান্য কারণটাই যখন বিচ্ছেদে গড়ায় তখন ভেঙে যায় গোটা একটা পরিবার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কয়েকটা জীবন। তথ্য মতে, সাধারণত সময়ের অভাবেই বেশিরভাগ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট পেশার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরাই এই পথে হাঁটছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন পেশাজীবীদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার সর্বোচ্চ।
অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্ট
বিবাহবিচ্ছেদের দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্টরা। পেশাগত কারণে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে মানসিক চাপ, অনিরাপত্তাবোধ, ঈর্ষা, প্রতারণার মতো বিষয়গুলো অতিমাত্রায় বেশি থাকে।
বারটেন্ডার
ডিভোর্স ডটকমের তথ্য মতে, বিবাহবিচ্ছেদের তালিকায় সব থেকে ওপরে আছেন বারটেন্ডাররা। তারা মূলত বারে পানীয় তৈরি ও পরিবেশন করেন। এই পেশাজীবীদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার সর্বোচ্চ।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী
এই পর্যায়ে রয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই পেশাজীবীরা সাধারণত প্রথমে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন রোগীদের, জীবনসঙ্গী নয়। এই পেশার কারেণে তারা খুব কমই সঙ্গী বা পরিবারকে সময় দিতে পারেন। তারা অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীর মানসিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন।
গেমিং সার্ভিসেস ওয়ার্কার
এই পর্যায়ে রয়েছেন গেমিং সার্ভিসেস ওয়ার্কার। যারা ক্যাসিনোতে কাজ করেন বা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাদের জীবনযাপনের ধরনের কারণে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে।
উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা
এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা। এটি এমন এক পেশা, যেখানে সব সময় মানসিক চাপে থাকতে হয়। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এই পেশাজীবীদের মানসিক দূরত্ব থাকে। তাদের জীবনসঙ্গীরা একাকিত্ব ও সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে স্বাভাবিক একটা দাম্পত্য জীবনের অভাবে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তারা।
ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টস
ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টস অনেকের কাছে খুবই আকর্ষণীয় চাকরি। এই পেশাজীবীরা বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়ে থাকেন। বেতনভাতাও তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে এই পেশাটি বেশ চাপের। ক্রমাগত ভ্রমণের ফলে তারা শারীরিক আর মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকেন। লম্বা সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা ও ‘লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ’ চালিয়ে নেওয়া সহজ কথা নয়।
ডান্সার ও কোরিওগ্রাফার
বিবাহবিচ্ছেদের হার ব্যালে ডান্সারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পেশাজীবনে সর্বোচ্চ সফলতার দেখা পাওয়ার জন্য তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাদের ফিটনেস বজায় রাখা খুবই জরুরি। শরীরে ব্যথা, ফ্র্যাকচার, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, হাড় ভাঙা- এ রকম নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন তারা। নিজেদের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা ও অসন্তুষ্টিতে ভোগার হারও তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পেশাজীবীরাই সবচেয়ে বেশি ‘ইটিং ডিজঅর্ডার’–এ ভুগে থাকেন।
ম্যাসাজ থেরাপিস্ট
ম্যাসাজ থেরাপিস্ট পেশাজীবীদের জীবনসঙ্গীরা তাদের স্বামীর পেশা নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় ভোগেন। এর ফলে অনেকে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন।
কাস্টমার কেয়ার, টেলিমার্কেটের ও সুইচবোর্ড অপারেটর
এসব পেশাজীবী সব সময় চেয়ারে বসে থাকেন। পুরো সময় ফোনে কথা বলেন। ফোনের অপর পাশের ব্যক্তির ঝাড়ি খান, গালি খান। ঠাণ্ডা মাথায় মানুষের সমস্যার সমাধানও দিতে হয়। এ কারণে তারা মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। মানসিক চাপ থাকে ভীষণ। ফলে জীবন থেকে সুখ বিষয়টা দূরে চলে যায়। আর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সম্পর্কে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং প্রয়োজন। তাই চেষ্টা করবেন যথাসম্ভব তাদের সঙ্গে নরম স্বরে কথা বলার। মনে রাখবেন, আপনার ভোগান্তি বা অসুবিধার জন্য তারা দায়ী নন। তারা কেবল জীবন চালানোর জন্য চাকরি করছেন।