নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় মোহাম্মদ আলী ইয়াকুব আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই মুহূর্তে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সবমিলিয়ে আমরা এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল কি বললো সেটা বিষয় না।
তিনি বলেন, একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রয়োজন। তবে যদি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো একমত থাকে— আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এবং পরে জাতীয় নির্বাচন; তাহলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি আর প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে আমরা সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি ও প্রস্তুতিও নিচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে নির্ভুলভাবে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
নির্বাচন নিয়ে কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল থেকে হুমকি বা কোনো কিছুই পাইনি। কে কি বললো এইটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথাও নেই, আমরা আমাদের মত করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যদি রাজনৈতিকভাবে সবাই মিলে একমত হয়— জাতীয় নির্বাচন পেছনে যাবে তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হতে পারে। আর যদি ডিসেম্বরে যেটা আমরা শুনছি— আপনারাও যেটা জানেন ওর মধ্যে যদি কোনো কাজ করতে হয় তাহলে মাঝখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা অনেক কষ্টকর ও অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা মনে করি, সব রাজনৈতিক দল যে বিষয়ে একমত হবে আমরা সেই হিসেবেই কাজ করবো।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সময় আসুক, সময় আসলেই সেটা বুঝা যাবে। তবে এতটুকু বলি— নির্বাচন কমিশনে যাদের নিবন্ধন আছে তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমাদের বারণ করার কিছু নেই।
তবে যদি সরকার কোনো একটা বিশেষ দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে আমাদের আইন অনুযায়ী তাদের যে নিবন্ধন আছে সেটা বাতিল করা হবে বলেও বলেন তিনি।
ভোটার তালিকার হালনগাদ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জহিরুল আলম, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেইসন, তেঁতুলঝোড়া ইউপি সচিব আমির হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।