পশ্চিম তীরে অভিযান

৫ সপ্তাহে নিহত ৫০ বাস্তুচ্যুত ৪০ হাজার

গত ১৯ জানুয়ারি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে অধিকৃত পশ্চিম তীর। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম তীর অঞ্চলে সেনা অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ অভিযানে ইতিমধ্যে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক এ তথ্য জানান।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার ফিলিপ ল্যাজারিনি পাঠানোর তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই থাকত শরণার্থীশিবিরে। পাঁচ সপ্তাহে পশ্চিম তীরের কয়েকটি শরণার্থীশিবির ধ্বংস করেছে আইডিএফ। নাবালুস শহরে ১৪ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। আমরা এখনো সেখানকার হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানি না। এখনো নাবালুসের সমস্ত চেকপয়েন্ট বন্ধ রেখেছে আইডিএফ। এ ছাড়া পশ্চিম তীরের অনেক সরকারি স্থাপনা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসও করা হয়েছে। এ সময় ইসরায়েলের সরকার এবং আইডিএফের উদ্দেশে ডুজারিক বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, আবারও বলছি মানুষের জীবন রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি। বেসামরিকদের ওপর কখনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা ন্যায্য নয়।’

২০২৩ সালে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। একই সময় পশ্চিম তীরেও শুরু হয় অভিযান, তবে তা গাজার মতো ব্যাপক আকারের ছিল না। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১৫ মাসে পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে আরও অন্তত সাত হাজার জন। গত সেপ্টেম্বরে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান শুরুর পর থেকে বন্ধ ছিল পশ্চিম তীরে অভিযান। তারপর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়। যুদ্ধবিরতির এক দিন পর ২০ জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরে ফের অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।