জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দুই পক্ষের সংর্ঘষে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন পন্ড হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ সৈকতের হামলায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ সভাপতি প্রার্থী বিপ্লব তরফদারে। এ ঘটনায় সম্মেলন স্থগিত করেছে উপজেলা বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘুরিয়া সাহেদ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ সৈকত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও আশুলিয়া থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার ৭৭ নম্বর আসামি এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সভাপতি প্রার্থী শাহ্ মো.মজনু ফকিরের ছেলে।
আহতরা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী শফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী শ্যামল মিয়া ও আল আমিনসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছে।
স্থানীয় ও বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ শুক্রবার চরপাকেরদহ ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন তেঘুরিয়া সাহেদ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ মো.মজনু ফকির ও যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব তরফদার সভাপতি প্রার্থী। সম্মেলন নিয়ে দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর মধ্যে ওই মাঠে সম্মেলনের মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওই মঞ্চ দেখতে বিপ্লব তরফদারের নেতাকর্মীরা ওই মাঠে যান। এ সময় শাহ মো.মজনুর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শাহ মোস্তাক আহাম্মেদ সৈকতের নেতৃত্বে তাদের (বিপ্লব তরফদারের নেতা-কর্মী) ওপর হামলা করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে সাতটি মোটরসাইকেল ও সম্মেলনের মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী বিপ্লব তফাদার বলেন, ‘মোস্তাক আহম্মেদ সৈকত জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও হত্যা মামলার ৭৭ নম্বর আসামি। বাবার সুবাদে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমার কিছু ছেলে সম্মেলনের মঞ্চ পরিদর্শন করতে যায়। এ সময় ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক মজনু ফকিরের ছেলে নেতৃত্বে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, মঞ্চে আগুন দেয়। এ সময় সাতজন কর্মীকে মারধর করে। এরমধ্যে গুরুতর আহত অবস্থা তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এ বিষয়ে চারপাকেরদহ ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক শাহ্ মজনু ফকিরের সাথে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
মাদারগঞ্জ উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান বলেন, ঘটনাটি জানার পর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, ঘটনার খবরে সেই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।