দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চরমপন্থিরা। চরমপন্থি সংগঠনগুলো খুন-খারাবি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্ম চালাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই তারা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পাশাপাশি জামিন নিয়ে কেউ কারাগার থেকেও বের হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণকারীরা খোলস পাল্টে এলাকায় একক আধিপত্য নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ছদ্মবেশে নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। কেউ ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ অন্যান্য পেশাতেও যুক্ত থেকেই কৌশলে অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে অনেকেই হত্যাকা-সহ নানা অপরাধে ভাড়ায় খাটছে। মূলত আত্মসমর্পণকারীরাই উত্তপ্ত করছে অপরাধের মাঠ।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, চরমপন্থিদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চরমপন্থিদের ১২টি সংগঠন আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ একটি তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় ২৭৫৫ সদস্যর প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই তালিকাটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই নিয়ে যৌথবাহিনীও কাজ করছে। তাদের প্রতিরোধ করতে পুলিশের বিশেষ টিম গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অন্তত দেড় হাজার চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। চরমপন্থিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। সরকারের ঘোষণায় সাড়া দিয়ে দুই হাজারের বেশি চরমপন্থি অস্ত্রসমর্পণ করেছিল। ১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জেলায় আধিপত্য নিয়ে চরমপন্থিদের হাতে নিহত হন চারশর বেশি মানুষ।
৭০০ জনকে দেওয়া হয় আনসারে চাকরি : অস্ত্রসমর্পণের পর তাদের মধ্যে ৭শ জনকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি দেওয়া হয়। কিন্তু সে চাকরি স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারেনি তাদের। যাদের আনসারে চাকরি দেওয়া হয়েছিল তারা অস্ত্র হাতে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি টাঙ্গাইল, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাহদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশালসহ আরও কয়েকটি জেলায় চরমপন্থিদের আনাগোনা বেড়ে গেছে বলে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হওয়ার পর তাদের অভিযানের মুখে চরমপন্থি সংগঠন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। ২০০৫ সালে র্যাবের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা মোফাখখার চৌধুরী। ২০০৮ সালে নিহত হন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) নেতা ডা. মিজানুর রহমান টুটুল ও এমএল-জনযুদ্ধের আবদুর রশীদ মালিথা বা দাদা তপন। র্যাব-পুলিশের অভিযানের মুখে কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে যান। কেউ আত্মসমর্পণ করে আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন চাকরি করে চলে যান পুরনো পেশায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে চাকরি ছেড়ে দেন বেশিরভাগই। পালিয়ে যাওয়া এসব চরমপন্থি পুরনো পেশায় ফিরে গেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত : পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এখনও তৎপর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি, পূর্ববাংলা লাল পতাকাসহ বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন। তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত, নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিতে পর্যন্ত লিপ্ত। চরমপন্থা অবলম্বন করেও তাদের পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। যে কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জলদস্যু, বনদস্যু, ইয়াবাকারবারিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। আশির দশক থেকেই চলনবিলের আশপাশের অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানে চরমপন্থিরা ঘাঁটি গাড়ে। স্বাধীনতার পরপর সিরাজগঞ্জ, পাবনা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রাজশাহী, রাজবাড়ী, নওগাঁয় মার্ক্স-লেনিন বা মাওবাদী আদর্শের অনুসারী গোপন দলের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ভাঙন, নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া এ সব দলের কর্মকা- চলে আসে। আদর্শগত বিষয় থেকে সরে গিয়ে অনেক সংগঠনের সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে।
১২টি সংগঠন নিয়ে পুলিশের ভয় : খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল লাল পতাকা), পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ), নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (শৈলেন গ্রুপ), শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন, বাংলাদেশ নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (গাজী-কামরুল), বাংলাদেশ নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মৃণাল), গণমুক্তি ফৌজ, গণবাহিনী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-রশিদ), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (মাদারীপুর গ্রুপ), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (বরিশাল গ্রুপ) ও পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (রাজবাড়ী গ্রুপ) নামে বিভিন্ন সংগঠন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়। এই সংগঠনগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ভয়ে আছে। পুলিশ ও র্যাবের আশঙ্কা-সংগঠনগুলো দিনে দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে চরমপন্থিরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ডাকাতি, খুন ও চাঁদাবাজির কারণে অস্থিরতা এবং আতঙ্ক বাড়ছে। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কারামুক্ত হন চরমপন্থি নেতা রিফুজি মঈন ও আসলাম ওরফে ট্যারা আসলাম। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর এলাকায় ফিরেছেন শীর্ষ চরমপন্থি টাইগার খোকনের সহযোগী শাহীন ওরফে বড় শাহীন। তাদের সহযোগীরাও এলাকায় ফিরে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।
আনার হত্যাকা-েও জড়িত শীর্ষ চরমপন্থিরা : পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রত্যাবাসনের কথা বলা হলেও তারা আবার পুরনো পেশায় ফিরে যায়। বাঁচার মতো কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থায় অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার পুরনো পেশায় ফিরে গেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে ভারতে হত্যার ঘটনায় চরমপন্থি একটি সংগঠনের দক্ষিণাঞ্চলের নেতা শিমুল ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের কর্মকা-ের বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনগুলোর সদস্যরা নানা পেশার আড়ালে অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে। তারা হত্যাকান্ডে ভাড়ায় খাটছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধেও জড়িত তারা। আগের মতো অভিযান না থাকার সুযোগ নিচ্ছে এই চরমপন্থিরা। আনার হত্যাকান্ডে জড়িতদের মধ্যে বেশিরভাগই চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য এবং শিমুলের পরিচিত। তিনি পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) দক্ষিণাঞ্চলের নেতা। তার নিয়ন্ত্রণে অন্তত অর্ধশত সদস্য খুলনা ও ঝিনাহদহে সক্রিয়। এই হত্যকা-ের পর চরমপন্থিদের ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিন্তায় ফেলেছে।
রাজনৈতিক নেতারা আশ্রয় দিলেই ব্যবস্থা : পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরতে বলেন, চরপন্থিদের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো নিয়ে আমরা বেশি আতঙ্কে আছি। সংগঠনগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের পুরো প্রোফাইল থাকছে তালিকায়। তালিকাভুক্তদের মধ্যে ২৭৫৫ জনকে আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের বিষয়ে কঠোর হার্ডলাইনে যেতে পুলিশের সবকটি ইউনিট প্রধান রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বিশেষ টিম দিয়ে অধ্যুষিত এলাকায় একটি বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো চরমপন্থি সদস্যকে কোনো দলের রাজনৈতিক নেতা আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরমপন্থি এলাকার কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপাররা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু চরমপন্থি কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছে। যেসব চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেছিল তারা আবারও পুরনো পেশায় চলে এসেছে। এমনকি আনসারের চাকরি পাওয়া সদস্যরা চাকরি ছেড়ে দিয়ে নানা অপকর্ম করছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। চরমপন্থিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করায় আমরা সতর্ক আছি। চরমপন্থিদের তৎপরতা প্রতিরোধ করতে যা যা করা দরকার পুলিশ তাই করছে।
পুলিশ সুপাররা আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪০ বছর ঝিনাইদহে রাজত্ব ছিল চরমপন্থিদের। জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের প্রতিটি নির্বাচন তারা প্রভাবিত করে আসছে। ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় এদের ব্যাপক আধিপত্য।
পুলিশ ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে শিথিলতার সুযোগে বেপরোয়া : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, খুলনা, বরিশালসহ আরও কয়েকটি জেলায় চরমপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের আনাগোনা রয়েছে। তারা নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাদের কেউ রিকশা ও রিকশা-ভ্যানচালক, কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ মুদি দোকানি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করছেন কেউ কেউ। পুলিশ-র্যাব ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে শিথিলতার সুযোগে চরমপন্থিরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। এলাকার পুলিশ ক্যাম্পগুলোও আগের মতো সচল নেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কমে গেছে অনেক। টাস্কফোর্সের বৈঠক হয় না প্রায় দুই বছর ধরে। আর কবে বৈঠক হবে তাও কেউ জানেন না।
ঝিনাইদহের ধানখোলা, মহিষাখোলা, এলাঙ্গী, বড়বামুন্দী, সানঘাট আড়পাড়া, জালশুকা, বেড়, ঝোরপাড়া, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বাড়ছে। গত বছরের ৩ মার্চ খানজাহান আলী থানার গিলাতলা ২নম্বর কলোনি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে চরমপন্থি নেতা জহিরুল ইসলাম লাল্টু, তার সহযোগী শহীদুল ইসলাম টেনা ও সাগর আহত হন। তারা কারও ওপর বোমা হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি সকালে ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ব্যবসায়ী মিলন ফকির নিহত হন। এই ঘটনায় চরমপন্থি জড়িত। গত মাসে ঝিনাইদহে তিন জনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ‘জাসদ গণবাহিনী নামে চরমপন্থি দল’ পরিচয় দাবি করে ‘দায় স্বীকারের’ বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তবর্তী এই জেলা ও আশপাশের এলাকায় চরমপন্থি দলের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রিপল মার্ডারের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে একদল অস্ত্রধারী বালুর ঘাটে হামলা চালিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের দুই লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে। ওই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় চরমপন্থি জড়িত।
যেসব আলোচিত হত্যাকান্ড : পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য আনার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শিমুল ভূঁইয়া দুটি খুনের মামলায় ২০ বছরের মতো জেল খেটেছেন। এর বাইরেও কয়েক চেয়ারম্যানসহ অনেক খুনের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে যশোর সদর, অভয়নগর ও ফুলতলা থানায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরকসহ আটটি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। খুলনার বিএল কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে শিমুল প্রথমে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর রাজনীতি করতেন। ১৯৯১ সালে যশোরের অভয়নগরে শীর্ষসন্ত্রাসী গণেশকে হত্যা করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। ২০০২ সালে তিনি ইমান আলী নামে আরেক শীর্ষসন্ত্রাসীকে হত্যা করেন। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টিতে (এমএল জনযুদ্ধ) যোগ দেন। অপরাধ জগতে একাধিক নামে ব্যবহার করেন শিমুল। সৈয়দ আমানুল্লাহ, আমানুল্লাহ সাঈদ, শিহাব, ফজল মোল্লা, ফজলসহ বিভিন্ন ছদ্মনাম রয়েছে তার। বাদল হত্যা মামলার বিচার চলাকালে শিমুল ভূঁইয়ার সেজো ভাই হাতকাটা মুকুল পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন। এর পেছনে বিএনপি নেতা সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর হাত থাকতে পারে বলে মনে করে ভূঁইয়া পরিবার। ২০১৭ সালে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিঠুকে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর দৌলতপুরে খুন হন নিষিদ্ধ সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম ওরফে হুজি শহীদ। শহীদ ছিলেন আরেক শীর্ষ চরমপন্থি নেতা গাজী কামরুলের অনুসারী। ২০০৭ সালে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের তালমের পারিল-বরইচড়া গ্রামে কৃষক আনিছুর রহমানকে হত্যা করে চরমপন্থিরা। গত বছরের ৩১ মার্চ চরমপন্থিরা ফুলতলায় এমএম কলেজের ভেতরে আলিফ রোহানকে দিনদুপুরে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কক্সবাজারে ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ শিকার হন খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু। এই হত্যাকাণ্ডের পর চরমপন্থিদের নিয়ে পুরনো আলোচনা নতুন করে শুর “হয়েছে। ২০১০ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত ঢালারচর দাসপাড়া নামক স্থানে আমিনপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন, নায়েক আব্দুল ওয়াহেদ ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম নিহত হন।