যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আনুষ্ঠানিকভাবে গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ৪২ দিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি তিন ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে হামাস ২৫ জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং আটজনের মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করে। বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি মুক্তি পান। তবে ইতিমধ্যে এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার শুরুর কথা থাকলেও, তাতে সায় দেয়নি ইসরায়েল। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ মেনে প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়াতে সম্মতি দিয়েছে দেশটি। রমজান উপলক্ষে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এই প্রস্তাব আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে। ইসরায়েল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে কোনো ঐকমত্য না হলেও, এখনই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করছে না তেল আবিব। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস গাজার যুদ্ধবিরতির চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। এই ধাপে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে নিরসনের কথা বলা হয়েছিল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, মার্চে শুরু হওয়া মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস শেষে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধে বিরতি থাকবে। প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি শর্তও জুড়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, বর্ধিত মেয়াদের প্রথম দিনেই গাজায় আটকে থাকা জিম্মিদের অর্ধেক মুক্তি পাবেন। যদি দ্বিতীয় ধাপ বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে এই ধাপের শেষ দিন বাকি জিম্মিরা মুক্তি পাবেন। তবে প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করেছে হামাস।

এদিকে, গাজায় সব ধরনের মানবিক ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার। গাজায় ইসরায়েল-হামাসের প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল সকাল থেকে গাজায় সমস্ত পণ্য ও ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হামাস যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। এর আগে, গতকাল সকালে হামাস নেতা মাহমুদ মারদাউই এক বিবৃতিতে জানান, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ও বন্দিদের ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হলো চুক্তির বাস্তবায়ন। শুধু দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির আলোচনায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও

গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর তৃতীয় ধাপে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের পুনর্গঠনবিষয়ক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা।