ডিজিএফআই সাবেক চিফ সাইফুলের বাসায় মিলল আড়াই কোটি টাকা

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলমের ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে এসব টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার ১০১ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) তানভীর ইমাম ও তার সন্তানের নামে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

এছাড়া গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।

দুদক ডিজি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত  দুদকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাইফুল আলমের ক্যান্টনমেন্টের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতিতে বাসা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এসব টাকা রবিবার আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। এছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল এবং ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১১ সেপ্টেম্বরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সেনাবাহিনী।

দুদকের তথ্যমতে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী লুবনা আফরোজের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের সন্তান ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।

সাবেক এমপি তানভীর ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে মামলা : এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার ১০১ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) তানভীর ইমাম ও তার সন্তানের নামে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩০ কোটি ৬২ লাখ ৩ হাজার ৮৩৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলের অপরাধে একটি মামলা করা হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে গতকাল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারে বলা হয়, তানভীর ইমামের স্ত্রী মাহিন ইমাম অবৈধ উপায়ে ৩ কোটি ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪৮ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সহায়তা করায় তানভীর ইমামকে মামলার আসামি করা হয়।

তৃতীয় মামলার এজাহারে বলা হয়, তানভীর ইমামের সন্তান মানিজে ইসমত ইমাম অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৭১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সন্তানকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করায় পিতা তানভীর ইমামকে মামলার আসামি করা হয়।

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক বিজন কুমার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, অধ্যাপক ড. মোশাররফ আলী, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান ও সেকশন অফিসার শারমিন চৌধুরী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ১৬টি প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদসহ বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ১৬টি পদের বিপরীতে শারমিন চৌধুরীসহ ২০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডাটাশিটে চাকরির জন্য আবেদনকারীর মোট সংখ্যা ছিল ৮৭০ জন। কিন্তু শারমিন চৌধুরীকে ডাটাশিটের সিরিয়াল নম্বর ৮৭৩ দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর বয়স ৩২ বছর উল্লেখ করা হলেও শারমিন চৌধুরীর বয়স ৩৩ বছর ৩ ছিল। শারমিন চৌধুরীর নাম আবেদনের তালিকায় না থাকলেও তাকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।