জামালপুরে রাজীব পরিবহনের বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রতিবাদ ও বাস সার্ভিস সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার ব্যানারে একদল শিক্ষার্থীরা পৌরশহরের বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে। এতে মনির (৩২) নামে এক শ্রমিক আহত হন। অবরোধ করায় সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ ঘটনার প্রতিবাদে একই স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও বাস-সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিনেই সড়ক অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের লোকজন। সবকিছু বন্ধ থাকায় ব্যস্ততম সড়কে যানবাহনের লম্বা লাইন হয়। অনেকেই যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত সড়কে অবরোধ চলে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজীব পরিবহন সার্ভিস জামালপুর-ঢাকা যাতায়াত করে। ওই পরিবহনটি বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট। তারা উন্নতমানের সার্ভিসের কথা বললেও তাদের ন্যূনতম সার্ভিসও যাত্রীরা পান না। আবার এই সিন্ডিকেটের কারণে বড় বড় বাস সার্ভিস জামালপুরে চলতে পারে না। রাজীব পরিবহনের বাসগুলো লক্কড়ঝক্কড় টাইপের। বাসের সিট ভালো না, অনেক বাসের জানালা ভাঙা। চালকদেরও লাইসেন্স নেই। চালক-হেলপারসহ শ্রমিকদের ব্যবহার খুব খারাপ। বাসগুলো জামালপুর শহর থেকে মুক্তগাছা পর্যন্ত বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এরপর থেকে বাসগুলো কচ্ছপ গতিতে চলে। মাত্র চার ঘণ্টার পথ যেতে এই বাসের লাগে ৬-৭ ঘণ্টা সময়। জামালপুরবাসীর গলার কাঁটা এই বাস সার্ভিসটি। কোনো ধরনের সেবা না থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া ঠিকই নিয়ে থাকে বাস কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে শ্রমিক ও মালিক সমিতি আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের ডাকলে উল্টো মারমুখী অবস্থানে যায় ছাত্ররা। এতে মনির নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের। শ্রমিত আহত হওয়ার প্রতিবাদে দুপুর ২টার দিকে পৌরশহরের বাইপাস এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাস শ্রমিকরা। এ সময় তারা বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন।
জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সড়কে বাস-মিনিবাস চলাচলে বাধাগ্রস্ত করছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করি। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাই। কিন্তু তারা আলোচনায় বসতে সম্মত না। তাই আমরা শ্রমিক ও বাসের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।’
জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, ‘গতকাল উপজেলার শরিফপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু নেতা ও বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করেছিল। এদিকে মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন পাল্টাপাল্টি অবরোধ করেন। এখনো অবরোধ চলছে।’