জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী সংগঠন হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় চিকিৎসক প্ল্যাটফর্মে কর্মরত ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণকারী চিকিৎসকরা এ সংগঠনের নেতৃত্বে থাকছেন। উদ্যোক্তারা বলছেন, স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসক ছাড়া দেশের যেকোনো দল ও মতাদর্শের চিকিৎসকরা এ সংগঠনে যুক্ত হতে পারবেন।
এ সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই গুগল ড্রাইভে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি-হেলথ উইং) : ভয়েস ইওর ইন্টারেস্ট’ নামে একটি ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী চিকিৎসকদের ফরম পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নতুন সংগঠনের কয়েকটা নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। যেমন জাতীয় চিকিৎসক কমিটি, জাতীয় চিকিৎসক পার্টি বা জাতীয় চিকিৎসক পরিষদ। প্রথমে সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি ও পরে ২০০-৩০০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশকে চারটি জোনে ভাগ করে সংগঠনের কমিটি করা হবে।
আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংগঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা। তারা জানান, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের নাম, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে ও পরে সেই কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ রূপ ঘোষণা করবে। এ সংগঠনের নেতৃত্বে থাকবেন তরুণ চিকিৎসকরা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হবে।
এনসিপি সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন তৈরির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে দেশে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম-এনডিএফ সক্রিয় রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ সক্রিয় ছিল। এ ছাড়া জাসদ ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত চিকিৎসকদের দুটি সংগঠনও রয়েছে।
এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন তৈরির মূল দায়িত্ব পালন করছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (চিকিৎসা) ডা. আবদুল আহাদ। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন তৈরির ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি গুগল ফরম দিয়েছি। ফরমের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ করছি। আমরা ছয় মাস ধরেই কাজ করছি। আমাদের বেশ কিছু কমিটিও আছে। সেগুলো নাগরিক কমিটির ব্যানারে ছিল। এখন নতুন সংগঠন হচ্ছে। আমাদের জুলাই আন্দোলনে অনেক চিকিৎসক প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন ও দিচ্ছেন এবং মাঠেও ছিলেন। সেসব চিকিৎসক ও খ্যাতিমান কিছু চিকিৎসক নিয়ে আমরা এ সংগঠন করছি। আপাতত এনসিপি- চিকিৎসক উইং হিসেবে কাজ করছি। আমরা সংগঠনের একটি নামও ঠিক করেছি। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের সংগঠন তৈরিতে এনসিপির সমর্থন আছে জানিয়ে ডা. আবদুল আহাদ বলেন, ‘আমি পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (চিকিৎসা)। যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদটা হচ্ছে শ্রমিক, যুব ইত্যাদি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রধানদের নিয়ে গঠিত। সেই পদ অনুযায়ী আমি চিকিৎসক সংগঠনের আহ্বায়ক থাকব। একটা সেন্ট্রাল কমিটি থাকবে এবং সারা দেশে তৃণমূল পর্যন্ত আমরা কমিটি দেব।’
এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন তৈরির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের জন্য গতকাল থেকে গুগল ড্রাইভে ফরম ছাড়া হয়েছে। সেখান থেকে সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ২০০-৩০০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশকে চারটি জোনে ভাগ করে কমিটি করা হতে পারে।
এসব চিকিৎসক জানান, কমিটিতে তরুণ চিকিৎসকরা থাকবেন। যারা সিনিয়র, তাদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখার পরিকল্পনা আছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটা নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। যেমন জাতীয় চিকিৎসক কমিটি, জাতীয় চিকিৎসক পার্টি, জাতীয় চিকিৎসক পরিষদ। এ সপ্তাহেই নাম চূড়ান্ত হতে পারে।
এসব চিকিৎসক আরও জানান, আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসক ছাড়া বাকি সব চিকিৎসক এ সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে যারা দল ত্যাগ করে আসতে চান, অর্থাৎ বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম-এনডিএফ বা অন্য কোনো দলের চিকিৎসকরাও আসতে পারবেন। তাদের স্বাগত জানানো হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের চিকিৎসক নিয়ে সংগঠন হবে। বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক সবাই থাকবেন। কিন্তু শুধু স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের দোসর হওয়া যাবে না।
এ সংগঠনের উদ্যোক্তাদের একজন জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির সরকার হিমু। তিনি জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকদের প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। নতুন সংগঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে এ চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে যে এতগুলো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের নিশ্চয়ই কিছু লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল। আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের সেসব উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য খাতে পূরণ করতে চাই। যেমন সাধারণ মানুষের জন্য একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা, সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও স্বার্থ দেখা। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করব। তথাকথিত চিকিৎসকদের সংগঠন যেগুলো আছে, তাদের মতো আমরা পার্টির লেজুড়বৃত্তি করতে যাব না। আমরা তরুণ চিকিৎসকরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যেকোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করব। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি অনিয়ম প্রতিরোধ করব।’