নগদ অর্থ লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা করপোরেট কর হ্রাসের (ট্যাক্স কাট) সুবিধা নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তারা কোম্পানির কর হারের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ঘুষ লেনদেন বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট সভায় সংস্থার পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বিগত অর্থবছরগুলোতে শর্তসাপেক্ষে কোম্পানিগুলোর করপোরেট কর হার ধারাবাহিকভাবে কমানো হলেও অর্থ আইন ২০২৪ অনুযায়ী নগদ লেনদেনের শর্তাবলির কারণে কেউই এই সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি ৮০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং সম্পূর্ণ ব্যাংকিং নির্ভর নয়। ফলে বড় ও মাঝারি কোম্পানির জন্য এই শর্ত পালন করা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি আরও বলেন, কার্যকরী কর হার অতিমাত্রায় বেশি এবং উৎসে কর কর্তন ও অননুমোদিত ব্যয়ের ফলে প্রকৃত কর ক্ষেত্র বিশেষে ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। করপোরেট কর হার বাস্তবিক হারে কমানোর পাশাপাশি, অগ্রিম আয়কর ও টার্নওভার কর নীতির সংস্কার প্রয়োজন।
এ ছাড়া কর প্রশাসনের উন্নয়ন ও স্বয়ংক্রিয় ডিজিটালাইজেশন চালুর মাধ্যমে কর ফাঁকি কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তাই কোম্পানির কর হারের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের শর্ত বাতিলের আবেদন জানান তিনি।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট আদায়, চালান ইস্যু, হিসাবরক্ষণ, রিটার্ন দাখিলসহ ভ্যাটের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি ন্যাশনাল সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ন্যাশনাল পদ্ধতি চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তবুও আমরা শুরু করতে চাই। এবং আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখন অনেকগুলো কোম্পানিকে ভ্যাট সফটওয়্যার তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করছে। একই বিষয়ে অনেক বেশি জনবল কাজ করছে, এতে জনবলের অপচয় হচ্ছে। আমরা নির্দিষ্ট একটি ন্যাশনাল সিস্টেম চালু করব। এতে ভোগান্তি কমে আসবে। ব্যবসায়ীরা ওই সিস্টেম ব্যবহার করে ভ্যাটের সব কাজ সমাধান করতে পারবেন।
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় ডিজিটালাইজেশন চালুর মাধ্যমে কর ফাঁকি কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও টার্নওভারের ওপর ৬ শতাংশ অনুমোদনের বিধান করা, রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রে সংগ্রহে জরিমানার বিধান রহিত করার প্রস্তাবের উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান আয়কর আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টসরা কীভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারে সেই পরামর্শ চান।