বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে কয়েক মৌসুম ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। সবশেষ ছয়বারের দেখায় একবারও জয় পায়নি বুন্দেসলিগার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মৌসুমেও তিনবারের মোকাবিলায় দুই ড্র ও এক পরাজয়—একবারও জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি মিউনিখের ক্লাবটি। এবার সেই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ ষোলোয় প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন ও লেভারকুজেন। জয়ের খরা কাটিয়ে ইউরোপ সেরার মঞ্চে নতুন শুরু করতে চায় স্বাগতিক দল।
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগার শিরোপা হাতছাড়া করেছিল বায়ার্ন। এক যুগ পর প্রথমবারের মতো নিজেদের আধিপত্য হারানোর অন্যতম কারণ ছিল লেভারকুজেনের দারুণ পারফরম্যান্স। দলটি শুধু যে লিগ জিতেছে তা নয়, বায়ার্নের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ছয় দেখায় অপরাজিত থেকেছে।
২০২২-২৩ মৌসুমের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় লেভারকুজেন। এরপর গত মৌসুমে প্রথম দেখায় ড্র করার পর দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। চলতি মৌসুমেও লিগের দুই দেখায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দল দুটি। এর মধ্যেই জার্মান কাপের শেষ ষোলোয় লেভারকুজেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় বায়ার্ন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে ফের সেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে সতর্ক বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের শক্তি স্বীকার করলেও নিজের দলের সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি বা শাবি আলোন্সো কেউই মাঠে নামতে পারব না, কাজটা খেলোয়াড়দের করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু মাঠের খেলাই আসল ব্যাপার। শেষ তিনবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আমরা জয় পাইনি, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ ছিল ভিন্ন রকম। মাঠের খেলাই মূল বিষয়। আমরা সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে নামব, কিন্তু কাজটা করতে হবে খেলোয়াড়দের।’
১৫ ফেব্রুয়ারির লিগ ম্যাচে পুরো সময় আক্রমণে আধিপত্য করে লেভারকুজেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। দলটি এবার বুন্দেসলিগায় শীর্ষে থাকা বায়ার্নের চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, প্রতিপক্ষকে সামলানো সহজ হবে না বলেই মনে করেন কোম্পানি।
তিনি যোগ করেন, ‘এই ম্যাচে একটু কম গতি রাখব, পরের ম্যাচে বাড়াব—এমন ভাবনার সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষকে সামলাতে দল হিসেবে সেরা সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শুধু দলীয় নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকেও নজর দিতে হবে আমাদের খেলোয়াড়দের।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে লেভারকুজেনের সেরা সাফল্য ২০০১-০২ মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও দলীয় পারফরম্যান্সে আলোন্সোর শিষ্যরাই এগিয়ে। এই ম্যাচে বায়ার্ন ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি লেভারকুজেনের অজেয় পথচলা অব্যাহত থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।