পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে অবসরে পাঠানোর আদেশ জারির পর সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর গতকাল বুধবার চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ফ্লোর (পঞ্চম তালা) ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি ভবনের সামনে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিএসসির কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিএসইসির চেয়ারম্যান কার্যালয় ছাড়ার আগে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বিএসইসি ভবনের কিছু জায়গায় ভাঙচুর চালান।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সাইফুর রহমানকে কেন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো, তার জবাব চান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কেউ কেউ বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পতদ্যাগ দাবি করেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান কমিশন নিয়ে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও হতাশা আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ কমিশনারদের খারাপ আচরণ ও ১২ কোম্পানির তদন্তের আলোকে শোকজ করা। সব মিলিয়ে বাজে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিএসইসিতে।
গত মঙ্গলবার নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ জারির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। তাই, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নিয়েই গত বছরের ২২ আগস্ট সাইফুর রহমানকে ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে আরঅ্যান্ডডি বিভাগের দায়িত্ব দেয়। তখনই মূলত তাকে একপ্রকার ওএসডি করা হয়। তবে ৯ সেপ্টেম্বর সেই দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। সেই থেকে সাইফুর রহমান নিয়মিত অফিসে এসেছেন, কিন্তু কোনো কাজ করতে পারেননি।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। গতকাল সরবরাহ করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ বছর চাকরি সমাপ্ত করায় বিধি-মোতাবেক কমিশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়ায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা বিএসইসি চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের কমিশনের বোর্ড রুম এর চলমান সভায় জোরপূর্বক ঢুকে অবরুদ্ধ করে। তারা কমিশন মূল ফটক এ তালা দিয়ে দেয়, সিসি ক্যামেরা আফ করে দেয় এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অরাজক, ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে ও পেশিশক্তি প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে তারা চেয়ারম্যানের পিএসকে লাঞ্ছিত করে।
তারা দাবি করে উপরোল্লিখিত দুই টি ইস্যু তে নেওয়া সিদ্বান্ত তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় কমিশনের তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করতে হবে। এর চরম উচ্ছৃঙ্খল ভীতিকর পরিস্থিতি ৪ ঘণ্টা চলে। কমিশন অবরুদ্ধ থাকার খবরে এবং বিএসইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রথমে পুলিশ ও পরবর্তীতে সময়ে সেনাবাহিনী বিএসইসি তে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিএসইসির কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এরূপ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।