বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জননিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা নাহিদ। গত সপ্তাহে এনসিপির আহ্বায়ক হওয়ার আগে সরকারের পদ ছাড়েন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম, স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা একটা মাত্রায় ঘটেছে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি।’
এনসিপি প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশিং ব্যবস্থায় আমি মনে করি না, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।’
২৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ নির্বাচনের সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘যখনই নির্বাচন হোক, আমরা অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের আগে “জুলাই ঘোষণাপত্র” নিয়ে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি।’
নাহিদের ভাষ্য, ‘আমরা যদি এক মাসের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে নির্বাচনের জন্য তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হব। কিন্তু যদি বেশি সময় লাগে তাহলে নির্বাচন পেছানো উচিত।’
তার দল গঠনের জন্য সমাজের বিত্তশালীরা অর্থায়ন করছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিগগির নতুন অফিসের জন্য ক্রাউডফান্ডিং শুরু করব এবং নির্বাচনের জন্য একটি তহবিল গঠন করব।’