মহাসড়ক যেন অপরাধীদের অভয়াশ্রম

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কটি গত ৫ আগস্টের পর থেকে অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে এ সড়কে চলন্ত গাড়িতে পাথর ছুড়ে, গাড়ি থামিয়ে অভিনব কায়দায় ছিনতাই, ডাকাতি হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ও চোরাকারবারিরা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কারবার। ওই সড়কে চলাচল করা চালক ও যাত্রীরা বলছেন, বেশ কিছুদিন হলো এ সড়কে রাতের বেলায় ডাকাতি বেড়ে গেছে। ফলে রাতের বেলা এ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই ও ডাকাতির ভয় ও আতঙ্কে থাকেন তারা। তাই এ মহাসড়কে যৌথবাহিনার অভিযান ও টহল আরও জোরদারের দাবি তাদের।

যাত্রীরা জানান, এ সড়কে ছিনতাই-ডাকাতির পাশাপাশি মাদক ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে গেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঠিক সেই সময়ে এই চেকপোস্ট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জ রোড হাটিকুমরুল এলাকায় একটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চোরাইপণ্য নামানো হচ্ছিল। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কে রাতের বেলায় চোরাকারবারিদের চোরাই ব্যবসা চলমান থাকলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম পাড় থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত এ মহাসড়কটি এখন যেন ছিনতাই, ডাকাতি, চোরাকারবারি ও মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

একাধিক বাসযাত্রী বলেন, দেশের চলমান অবস্থা বিবেচনা করে খুব ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে চলার সময় সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়তে হয়। এ সময় অভিভাবকরাও ভয়ে থাকেন। তারা বলেন, এ মহাসড়কে যৌথবাহিনীর নিয়মিত অভিযান থাকলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। সড়ক নিরাপদ রাখতে তারা যৌথবাহিনীর প্রতিনিয়ত অভিযান চান।

সৌদি আরবপ্রবাসী জুবায়ের হোসেন জানান, দীর্ঘ ৪ বছর পর তিনি গত মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরে ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তার গাড়ি যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের ওই এলাকা পৌঁছলে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা পাথরের ঢিল ছুড়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলে। এ সময় চালক গাড়ির গতি কমিয়ে থামাতে গেলে দুর্বৃত্তরা মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। চালক বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক চোরাকারবারির সঙ্গে০ যুক্ত ট্রাকড্রাইভার ও হেলপার বলেন, হাটিকুমরুল এলাকাসহ এ মহাসড়রকের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ট্রাক থামিয়ে মাদক ও চোরাইপণ্য নামানো হয়। ট্রাক না থামালে তাদের ওপর নির্যাতন ও বিভিন্ন প্রকার ঝামেলা করে চোরকারবারে যুক্ত প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ীরা। চোরাই মালগুলো নামানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেগুলো মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। মহাসড়কে এগুলো অনেকদিন ধরে চললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

এদিকে পুলিশ বলছে, সারা দেশের ন্যায় এই মহাসড়কটিতেও চলছে যৌথবাহীনির বিশেষ টহল ও সাঁড়াশি অভিযান। তারপরেও বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও অরাজকতা হচ্ছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুর রউফ বলেন, হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বেশকিছু স্থানে চোরাকারবারি অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অবগত হয়েছি। আমরা অভিযানের মাধ্যমে সেই সকল জায়গা থেকে তাদের তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই ওই সকল জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

বগুড়া রেঞ্জের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, উত্তরবঙ্গের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা ইতিমধ্যে পুলিশের টহল কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছি। এই রমজান, ঈদের সামনে ও ঈদের পরে এ নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।