দেশে যে কোনো নির্বাচনের আগে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আলাদা। জুলাই ঘোষণাপত্র ছিল ছাত্রদের দাবি। আর প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে জুলাই সনদ হবে। আমরা চাই নির্বাচনের আগেই এই জুলাই সনদের ঘোষণা করা হোক।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। এদিকে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচন প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব নয়, এভাবে বলিনি। বলেছি, পুলিশ যে নাজুক অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থেকে নির্বাচন সম্ভব নয়। আমার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে।’
সম্প্রতি আত্মপ্রকাশের পর গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথম সভা হয়েছে জানিয়ে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক বলেন, ‘আজকের সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে নারীর ওপর যে সহিংসতা ঘটছে দেশের বিভিন্ন স্থানে, ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে এসব ঘটনায় নাগরিক পার্টি উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নারী নিপীড়নকারীদের যেন যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হয়।’
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ বছর দেশে নির্বাচন সম্ভব নয়, এ কথা আমি বলিনি। আমি বলেছিলাম দেশের যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ যেভাবে নাজুক অবস্থায় আছে, এ রকম নাজুক অবস্থায় নির্বাচন করা অনেক কঠিন হবে। এই পুলিশ প্রশাসনের কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা নেই। তাদের সক্ষমতা পরীক্ষা হয় না দীর্ঘদিন ধরে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবশ্য উন্নত করতে হবে। আমরা নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তু‘ত রয়েছি।’
রয়টার্সের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারভিউতে কিছু মিস কোড হয়েছে। আমি বলেছিলাম যে, আমাদের আর্থিক বিষয়ে সমাজের যে সচ্ছল মানুষ বা শুভাকাক্সক্ষী রয়েছে তারা মূলত আমাদের সহযোগিতা করে। আমরা একটা অনলাইন এবং অফলাইনকেন্দ্রিক ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে কার্যালয় স্থাপনসহ ইলেকশন ফান্ডিং (নির্বাচনী তহবিল) রিচ করব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা ভুলভাবে এসেছে, এটা সংশোধনের জন্য অনুরোধ থাকবে।’
৩০০ সংসদীয় আসনের সবকটিতে এনসিপির প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দল আত্মপ্রকাশের পর আমরা এখন নিবন্ধনের শর্তাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করছি, সাংগঠনিক বিস্তারে মনোযোগ দিয়েছি। রোজার পর এগুলো পুরোদমে চলবে। এরপর আমরা ভাবব।’
এদিকে, দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে সক্রিয় করতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি। কর্মসূচি ঘোষণা করে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদসহ সকল অংশীজনদের নিয়ে আগামী ১০ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। সারা দেশের সব অংশীজনরা এতে অংশ নেবেন। অন্যদিকে, ১১ মার্চ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল করা হবে।’