শ্রীপুরে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর

গাজীপুরে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে রেস্টুরেন্ট নির্মাণকাজ শুরু করেন আওয়ীমী লীগের স্থানীয় এক নেতা। যার কারণে ফুটপাতে পথচারীদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ ওঠা আতিকুর রহমান আবু সামা জেলার শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মৃত কিতাব আলীর ছেলে। তিনি শ্রীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক এবং মোবাইল মার্কেট কিতাব আলী প্লাজার মালিক। এই আওয়ামী লীগ নেতা গতকাল শুক্রবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা থেকে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এশিয়ান টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি আরিফ খান আবিরকে তুলে নিয়ে গুমের চেষ্টা করেন বলে ভাষ্য সাংবাদিক আবিরের সহকর্মীদের। পরে খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, কয়েক দিন আগে সড়কের জমিতে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করতে ইটের গাঁথুনি দেওয়া শুরু করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সাংবাদিক আরিফ খান আবিরও পথচারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরেন। এই দখলদারি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে, গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ও শ্রীপুর পৌরসভা যৌথ অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে। এ ঘটনার পর থেকে আবিরকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

আবির বলেন, ‘সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সামা নানাভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আজ (গতকাল) মাওনা চৌরাস্তায় ইফতারের খবরের লাইভে থাকার আগমুহূর্তে তুলে নিয়ে যায় আমাকে। তার বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে আটকে রেখে বাড়ির কেয়ারটেকারদের বস্তা ও ছুরি আনতে বলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য। পরে কৌশলে প্রেস ক্লাবের গ্রুপে অপহরণ করার খবর দিলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করেন।’

উদ্ধার করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের মধ্যে একজন আজকের পত্রিকার রাতুল মণ্ডল বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের গ্রুপে জানতে পারি সহকর্মী আরিফ খান আবিরকে জিম্মি করে রেখেছেন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সামা। পরে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।’

শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল সালাম রানা বলেন, ‘সহকর্মী আরিফ খান আবিরকে আটকে রেখে গুম করতে চেয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।’

গাজীপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি ইকবাল আহমেদ সরকার বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীকে এভাবে অপহরণ করে হত্যা করতে চাওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হত্যার নামান্তর।’

শ্রীপুর থানার ওসি মো. শামীম আক্তার জানান, ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।