রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ক্রমবর্ধমান তামাক চাষের প্রবণতা স্থানীয় কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তামাক চাষ প্রসারের ফলে ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার ও ধোঁয়াজনিত দূষণের কারণে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হেক্টর, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৩ হেক্টর এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ৩ হেক্টর আবাদি জমিতে বিষাক্ত তামাক চাষ করা হয়েছে।
তামাক চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের জমিতে তামাক চাষ শুরু করেছেন। গত পাঁচ বছরে গোয়ালন্দে তামাক চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো কৃষকদের চাষের জন্য প্রলোভনমূলক প্রস্তাব দিচ্ছে, যা তামাক চাষ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
জানা গেছে বিভিন্ন বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা তৈরির প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
স্থানীয় তামাক চাষি আলেব খাঁ বলেন, ‘জমিতে খাদ্যশস্য রোপণ করে লাভবান হতে পারিনি। তাই ক্ষতিকর জেনেও এক প্রকার বাধ্য হয়েই তামাক চাষ করছি।’
আরেক চাষি সুলতান বলেন, ‘কোম্পানি থেকে আমাদের বীজ, সার, কীটনাশক, ত্রিপল ও উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। আবার তারাই তামাক পাতা কিনে নেয়। এতে আমাদের বিনিয়োগ কম, কিন্তু লাভ বেশি।’
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরিফ ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে শরীরে নিউরো-টক্সিকের প্রভাব পড়ে। এছাড়া অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (ঈঙচউ), যার মধ্যে এমফাইসিমা ও ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস অন্তর্ভুক্ত এবং ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। তামাক উচ্চ রক্তচাপ ও প্রান্তীয় রক্তনালির রোগের কারণও হতে পারে। তাই তামাক চাষ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।’
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোকন উজ্জামান বলেন, ‘তামাক চাষ নিয়ে ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নিয়মিত নিরুৎসাহিত করতে আমাদের কৃষি উপ-সহকারীরা উপজেলার মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন।’