মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিচারকাজ ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। একই সঙ্গে আদেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিশুটির ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গতকাল রবিবার এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় ধর্ষণের শিকার হওয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছরের কন্যাশিশুটি। তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে মুমূর্ষু অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে গত শনিবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, পাশবিক নির্যাতনের শিকার শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। নৃশংস এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের করা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল দুই আইনজীবীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়।
হাইকোর্ট তার আদেশে বলেছে, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মাগুরায় শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে এবং অভিযোগ আমলে নেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারায় সংবাদমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধানিষেধ সম্পর্কে বলা আছে। হাইকোর্ট তার আদেশে এই ধারা ভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ১৪ ধারাটিকে দেশ জুড়ে সবাইকে জানাতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে আদেশে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিশু ও তার ১৪ বছর বয়সী বড় বোনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতে ঢাকা এবং মাগুরা জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলেছে আদালত। আর এ নির্দেশনা কার্যকরের অগ্রগতি জানিয়ে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) ১৭ মার্চ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন এ রিট আবেদনটি করেন। দুজনে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।
অ্যাডভোকেট হামিদুল মিজবাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাগুরায় শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি চরম বর্বরতা। আমরা এ ঘটনাসহ এর আগে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার বিষয় হাইকোর্টের নজরে এনেছি। আদালত আদেশ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, আইন, স্বরাষ্ট্র এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়কে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি বিষয় নিশ্চিত করবে।