নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ শিগগিরই

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছে একটি ‘জাতীয় সনদ’ তৈরি করতে চাই। তিনি বলেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আশা করেন, শিগগিরই নির্বাচনের ব্যাপারে আরও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আসবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফররাজ হোসেন, এমদাদুল হক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্বাচনের যে টাইম-টেবিল তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত টাইম-টেবিল দেখিনি। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন করার ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, শিগগিরই এ ব্যাপারে আরও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আসবে। ফলে ঐকমত্য কমিশনের কাজের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘিœত হওয়ার কারণ আমি দেখি না।’

সংবাদ সম্মেলনে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি জানান, সংস্কারের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামত চেয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ১৩ মার্চের মধ্যে দলগুলো মতামত জানাবে বলে তারা আশা করছেন। দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর শুরু হবে আলোচনা। আলোচনার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। যখন যে দলের মতামত পাওয়া যাবে, সে সময় থেকেই আলোচনার শুরু হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর প্রতি যত দ্রুত সম্ভব মতামত জানাতে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। এই প্রক্রিয়ার পরের ধাপ রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে। আমরা চাই দ্রুত আলোচনা করতে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঐকমত্যে পৌঁছে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘যেকোনো অবস্থাতেই আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই আলোচনা অগ্রসর হবে। সুপারিশের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের পাশাপাশি নাগরিকদের মতামত জানার জন্য শিগগিরই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবস্থা করব। আমরা মনে করি, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের এই অধিকার আছে, এসব সংস্কারের বিষয়ে তারা যেন সুস্পষ্ট মতামত দিতে পারেন।’

অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করা যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে যেসব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, সেটা আমরা বিবেচনায় রেখেছি। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব আমাদের দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমরা সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করেছি। অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে সংবিধান সংস্কার করা যায়, এটা বাংলাদেশে হয়েছে। ফলে এটা সঠিক-বেঠিক, আমি একমত বা দ্বিমত হতে পারি। তবে অতীতে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে সংশোধনী হিসেবে গৃহীত হয়েছে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি গণপরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘গণপরিষদের আলোচনা আছে, আপনারা জানেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি খুব সুস্পষ্টভাবে বলেছে, তারা গণপরিষদ চায়। এর বাইরেও অনেক রাজনৈতিক দল আছে, যারা গণপরিষদের কথা বলেছে। শুধু ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যারা সংবিধান নিয়ে আলোচনা করে, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে, তারা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের কথা বলেছে।’

গত বছরের অক্টোবরে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশন গত ৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন।