সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত পাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতো সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জেলার এই স্মার্ট অভিভাবক। আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষ করে আজ থেকেই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। তার নির্দেশ পেয়েই আজ শহরের চাষারা মোড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকার রাস্তার দুই পাশ থেকে সমস্ত সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড এবং ফেস্টুন অপসারিত করা হয়েছে। চলছে রাস্তার পাশে সমস্ত ময়লা আবর্জনা অপসারণের।
জেলার সব সরকারি সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ প্রোগ্রাম চলবে অব্যাহতভাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার দুই পাশে কোনো ধরনের ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে রাখা যাবে না, সেটা রাজনৈতিক দলের হোক, কিংবা প্রতিষ্ঠানের হোক।
জেলা প্রশাসক এ সময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন নারায়ণগঞ্জ শহরকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি তৈরি করতে। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন এই শহরকে বাংলাদেশের মধ্যে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন শহর হিসেবে মডেলে রূপান্তরিত করতে পারবো।
আমরা ইতিমধ্যেই শহরের মধ্যে এক লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আজ থেকে আমার নির্দেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীর সমন্বয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৫ ট্রাক ফেস্টুন অপসারন করা হয়েছে এরই মধ্যে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সমস্ত সড়কের ফেস্টুন অপসারনের কাজ অব্যাহত থাকবে। শহরে অধিক পরিমাণ ব্যানার ও ফেস্টুন থাকায় মানুষের মাঝে বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে রাখায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে ও গাছপালা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে ।
আমরা গাছ থেকে পেরেক তোলার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে, বলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা প্রাণ ভরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিঃশ্বাস গ্রহণ করি।
তিনি আরো বলেন, নিজের শহরকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা রাখি। নারায়ণগঞ্জকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটিতে রূপান্তরিত করি। এই নারায়ণগঞ্জ আমাদের সবার। সারা বাংলাদেশ আমাদের নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে গর্ব করবে আলোচনা করবে এই গ্রিন সিটির জন্য। সবাই দোয়া করবেন এই পরিকল্পনাকে যাতে বাস্তবায়ন করতে পারি আপনাদের সবার সহযোগিতায়। আশা করি যানজট নিরসনে শহরবাসী খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারছেন। এবং সবাই এর সুফল ভোগ করছেন। তাই আমি চাই সর্বক্ষেত্রে আপনারা সুফল ভোগ করুন।
নারায়ণগঞ্জ শহর একটি শিল্পাঞ্চল শহর ও খুব ঘনবসতি শহর। জনসংখ্যা অনেক বেশি। ভবিষ্যতে আরও অনেক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদেরকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। হাতে আমাদের সময় খুব অল্প। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সব কিছু করে যেতে হবে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যেন তারা সুফল ভোগ করতে পারে।