এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে কাল ইউনূস-গুতেরেসের ইফতার

চার দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মূলত রোহিঙ্গা বিষয় নিয়েই এবারের বাংলাদেশ সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করবেন তিনি। এর মধ্যে আগামী শুক্রবার সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করবেন আন্তোনিও গুতেরেস ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

শফিকুল আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কমে গেছে অনেক। আমরা আশা করছি জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর মানবিক সহায়তাগুলো জোগাড় করার ওপর একটি ভূমিকা রাখবে। তাদের পুষ্টি সহায়তা খুবই জরুরি। আমরা চাই রোহিঙ্গাদের পুষ্টির চাহিদা যাতে কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ না হয়। সেজন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হয়, প্রতিমাসে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার রোহিঙ্গাদের জন্য দরকার। আমরা আশা করছি, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর এখানে বিশ্বের নজর ফিরিয়ে আনবে। রোহিঙ্গাদের জন্য যে সহায়তা আসে সেটা যেন বন্ধ না হয়, তাতে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করবে জাতিসংঘ। তার সঙ্গে ফিনল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া যুক্ত হয়েছে কো-স্পন্সর হিসেবে। আমরা আশা করছি, জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরকে ঘিরে এই আয়োজনে আরও ডেভেলপমেন্ট হবে। আমরা চাচ্ছি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান পথ তৈরি হোক।

ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের চার দিনব্যাপী সফরসূচি তুলে ধরেন আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগামীকাল (আজ) বিকেল ৫টায় ঢাকায় আসবেন। আগামী ১৬ মার্চ তিনি ফিরে যাবেন। এই চার দিন বাংলাদেশে অবস্থানকালে তার মূল কর্মসূচি দুই দিন, ১৪ ও ১৫ মার্চ। জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায় অবতরণের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যাবেন। তার সঙ্গে একই বিমানে কক্সবাজার যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। কক্সবাজারে প্রধান উপদেষ্টার কিছু কর্মসূচি আছে। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরের একটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন এবং একটি জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি একটি মডেল মসজিদেরও উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব কক্সবাজার থেকে সরাসরি চলে যাবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেখানে একটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হবে। সেটার পর যাবেন রোহিঙ্গা কালচারাল সেন্টারে। রোহিঙ্গারা সেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপনা করবে। রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গেও জাতিসংঘ মহাসচিব বসবেন এবং কক্সবাজারে একটি লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করবেন। এই প্রোগ্রামগুলো শেষ হলে তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করবেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টাও অংশ নেবেন।

‘ইফতার আয়োজন করা হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার সৌজন্যে। রোহিঙ্গাদের জন্য এটি একটি ইউনিক এক্সপেরিয়েন্স হবে। নানা দুঃখ কষ্টের মধ্যেও তারা ওই সময়ে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করবেন বলে আশা করছি, ’ যোগ করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব সেদিনই (শুক্রবার) কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরবেন উল্লেখ করে উপ প্রেস সচিব জানান, পরদিন শনিবার মহাসচিব কর্মব্যস্ত দিন কাটাবেন। ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। দুপুরে চারটি সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবেন, এরপর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শনিবার তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনের পর তার সম্মানে প্রধান উপদেষ্টা আয়োজিত ইফতার ও  নৈশভোজে যোগ দেবেন। পরদিন তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর। বাংলাদেশে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর হবে। ২০১৮ সালে তিনি একবার বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকার বিশ্বাস করে, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফরের ফলে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আবার বৈশ্বিক আলোচনায় আসবে। সরকার আশা করে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব একটি ভালো বার্তা দেবেন।

এদিকে আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে ১৩ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সফরকালীন জাতিসংঘের মহাসচিবকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।