টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া এলাকায় চার বছরেও শেষ হয়নি ‘খাকুরিয়া সেতুর’ নির্মাণকাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৪১ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
জানা যায়, দেওপাড়ার খাকুয়িরার সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে একাংশ ভেঙে যায়। সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দরপত্র আহ্বান করে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসই সাদিয়া অ্যান্ড সামিয়া জয়েন্টভেঞ্চার কাজটি পায়। এ কাজের ব্যয় ধরা হয় চার কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু করে ২০২২ সালে ২০ মার্চ সেতুর কাজ শেষ করার কথা ছিল।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ করে। সাব-ঠিকাদার বিকল্প সড়ক নির্মাণ না করেই মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুটি ভাঙা শুরু করে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাদামাটি দিয়ে হাঁটা রাস্তা তৈরি করে দেয়। তা ছাড়া সেতুতে ওঠার জন্য তৈরি করে দেয় বাঁশের সিঁড়ি। একপর্যায়ে সেতুর কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেই সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম উধাও হয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কোনো খোঁজ নেই। কাজটি আটকে থাকায় তাদের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে।
সিএনজিচালক জাহাঙ্গীর, ভ্যানচালক তাওহিদ, ট্রাকচালক আব্দুর রশিদ, অটোরিকশাচালক আসাদুল জানান, সাব ঠিকাদার বিকল্প সড়ক নির্মাণ না করেই সেতুর কাজ শুরু করে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাদামাটি দিয়ে হাঁটা রাস্তা তৈরি করেন। এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। চার বছরেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।