আফিয়া ও হাসান দম্পতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতার গাউছিয়া মার্কেটে এসেছেন পাইকারিভাবে কাপড় কিনতে। সেখানে থ্রি-পিস, কাপড় ও শাড়ির দোকান রয়েছে। ১৫ রোজার পর থেকে খুচরা দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। তাই তারা দোকানের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, প্যান্ট পাইকারি কিনতে এসেছেন। শুধু অফিয়া আক্তার-হাসান দম্পতি নন, তাদের মতো কয়েক লাখ খুচরা ব্যবসায়ী এসে ভিড় জমিয়েছেন রূপগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের পাইকারি বাজার গাউছিয়া মার্কেটে। মার্কেটে খুচরা ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত পুরো মার্কেট। এতে এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার সুযোগ নেই। গাউছিয়া মার্কেটের সাড়ে ৫ হাজারের অধিক দোকান রয়েছে। আরও আড়াইহাজার দোকান নির্মাণাধীন রয়েছে। যার মাঝে ৮০ ভাগই পাইকারি কাপড় বিক্রি করে। এ ছাড়া মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে শতাধিক পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস তৈরির কারখানা। তবে সুতা ও কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে কাপড়ের দাম কিছু বেশি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। ঈদকে সামনে রেখে সাড়ে ৫শ কোটি টাকার কাপড় বিক্রির টার্গেট ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দেশে অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের পাইকারি বাজার গাউছিয়া মার্কেটে ৫ হাজারের অধিক দোকান রয়েছে। এ সকল দোকানের সিংহভাগই পাইকারিভাবে থ্রি-পিস, কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাইকারিভাবে বিক্রি করা হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুইদিন গাউছিয়া মার্কেটে হাট জমে ওঠে। আর বাকি দিনগুলোতে কিছু দোকানে খুচরাভাবে বেচাবিক্রি চললেও পাইকারি দোকানগুলো হাটের দিন ছাড়া খোলা হয় না। তবে ঈদ সামনে হওয়ার কারণে সব দোকানই প্রতিদিন নিয়মিত খোলা হচ্ছে। গাউছিয়া মার্কেটে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ভৈরব, রাজশাহী, ফরিদপুর, টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে খুচরা ব্যবসায়ীরা আসেন পাইকারিভাবে কাপড় কিনতে। এ দেশে ১৫ রোজার পর থেকে খুচরা দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। এবার প্রতিপিস শাড়ি ও থ্রি-পিসে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
এ কারণে ১৫ রোজার আগেই খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকানের জন্য কেনাকাটা করতে এখানে এসেছেন। তবে মার্কেটের বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরই নিজস্ব থ্রি-পিস ও শাড়ি তৈরির কারখানা রয়েছে। মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোরের শতাধিক থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি তৈরির কারখানায় তৈরি হওয়া কাপড় বিক্রি করা দোকানগুলোতে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামাল ও সুতার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। প্রতি থ্রি-পিস ও শাড়িতে ৫০-৬০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে করে খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের সঙ্গে কিছুটা দরদাম করছেন। এদিকে, কাপড়ের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। মার্কেটে পাইকারির পাশাপাশি খুচরা কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই পরিবারের জন্য কমদামে এখান থেকে খুচরা থ্রি-পিস ও শাড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তেমনি এক ক্রেতা আমিনুল ইসলাম। তিনি মানুষের কাছে শুনেছেন গাউছিয়া মার্কেটে কমদামে ভাল মানের থ্রি-পিস ও শাড়ি পাওয়া যায়। তাই তিনি রাজধানীর নতুন বাড্ডা থেকে এখানে এসেছেন কেনাকাটা করতে।
কথা হয় গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী ইকবালের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এখানে এসে কাপড় নিয়ে যাচ্ছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম। দিন যত যাবে বিক্রি তত বাড়বে বলে আশাবাদী আমরা।
কথা হয় উত্তরা থেকে আসা উর্মি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার একটি অনলাইন পেইজ রয়েছে। এই পেইজের মাধ্যমে আমি থ্রি-পিসসহ মেয়েদের কাপড় বিক্রি করি। গাউছিয়া মার্কেট থেকে পাইকারিভাবে কাপড় কিনে নিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি। মার্কেটে এসে দেখলাম নতুন ডিজাইনের অনেক কাপড় এসেছে। ঈদের আগে বিক্রির জন্য প্রায় এক লাখ টাকার থ্রি-পিছ কিনেছি।
আরেক ব্যবসায়ী মাছুম জানান, তিনি নিজের কারখানায় থ্রি-পিস ও শাড়ি তৈরি করে গাউছিয়া মার্কেটের নিজের দোকানে পাইকারিভাবে বিক্রি করেন। কাঁচামাল ও সুতার দাম বাড়ার কারণে কারণে পণ্য তৈরিতে খরচও অনেক বেশি পড়ছে। তাই একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রাজশাহী থেকে পাইকারিভাবে কাপড় কিনতে আসা আলম মিয়ার সঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর থেকেই আমাদের বিক্রির ধুম পড়বে। তখন দোকান ফেলে কাপড় কিনতে আসা সম্ভব নয়। তাই আগে থেকেই সব মালামাল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। তবে মালামাল নেওয়ার জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তি হয়। বাধ্য হয়ে মহাসড়কে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। কাপড়ের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।