ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির শঙ্কা

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটার এলাকা পড়েছে রূপগঞ্জের অংশে। এ ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারা বছরই দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। এ কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বছরের পর বছর। বছর জুড়ে যানজটের নেপথ্যে রয়েছে রূপসী, বরপা ও ভুলতা বাসস্ট্যান্ড। এ তিন বাসস্ট্যান্ডের কারণেই এ মহাসড়কে যানজট প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে এ যানজটের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ বছরও ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল সন্ধ্যা যানজট লেগেই থাকে। এর অন্যতম কারণ রূপসী বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে রূপসী-কাঞ্চন সড়কের লিংক  রোড রয়েছে। রূপসী-কাঞ্চন সড়কে সিটি গ্রুপ, এসিআইসহ বেশকয়েকটি বড় শিল্প কারখানা রয়েছে। ঈদের আগে এ কারখানাগুলোতে আরও বেশি পরিমাণ ট্রাক আসা যাওয়া করে। এ কারণে ঈদযাত্রা এ বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। বরাবো বাসস্ট্যান্ডেও সারা বছর দীর্ঘ  যানজট লেগেই থাকে। এর অন্যতম কারণ বরাবো বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের রাস্তাটি তুলনামূলক প্রশস্ত অনেক কম। রাস্তা প্রশস্ত কম হওয়ার কারণে যাত্রীবাহী যানবাহন যাত্রী উঠানোর সময় এখানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। এটি ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় যাত্রী উঠানো নামানো জন্য কয়েক মিনিটের জন্য গাড়ি থামালে এখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যায়। এর সঙ্গে ইজিবাইক ও সিএনজি গুলো রাস্তার রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

অপরদিকে, ঢাকা-সিলেট-মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় যানজটের পরিমাণ থাকে সবচেয়ে বেশি। এ কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সবচেয়ে বেশি। তবে যানজট নিরসনের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান বাইপাস সড়কে ৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তিন তলাবিশিষ্ট ফ্লাইওভার। এতে দীর্ঘদিনের যানজটের নিরসন হবে বলে মনে করেছিল সাধারণ মানুষ। এ সে আশা আর পূরণ হয়নি মানুষের। ফ্লাইওভারটিতে কোনো প্রকার টোল রাখা হয়নি। দূরপাল্লার ভাল কোম্পানির কিছু গাড়ি ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করলেও দূরপাল্লার সিংহভাগ বাস ও লোকাল বাসগুলো সব ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করছে। এতে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফ্লাইওভারটি অনেক খালি পড়ে থাকে। দূরপাল্লার বাসগুলো ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ সকল কারণে ফ্লাইওভার অনেকটা ফাঁকা থাকলেও ফ্লাইওভারের নিচে থাকে গাড়ির জটলা। ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে দেশের অন্যতম কাপড়ের বাজার গাউছিয়া মার্কেট। এ মার্কেটকে ঘিরে এই এলাকাটিতে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। মার্কেটের সামনে মহাসড়ক দখল করে হকাররা কাপড়ের দোকান ও খাবারের পসরা বসিয়ে রেখেছে। হকার দিয়ে পুরো রাস্তায় দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন নির্বিঘেœ এ রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। গত কয়েকদিন আগেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরই আবারও দখল হয়ে গেল ফুটপাত ও মহাসড়ক। 

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, রূপগঞ্জে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। যার বেশিরভাগই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান বাইপাস সড়কের পাশে।  কোনো ফুটওভার ব্রিজ না থাকার কারণে এ সকল শিল্প কারখানা ছুটি হওয়ার সময় কারখানার নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থামিয়ে শ্রমিক পারাপার করান। মহাসড়কে একটু সময় যানবাহন বন্ধ থাকলে গাড়ি দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন বলেন, যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সচেতনতা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এটি সিঙ্গেল লেনের রাস্তা। চালকরা নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোয় যানজট লেগে থাকে। আমাদের দুটি মোবাইল টিম রাখা হয়েছে মহাসড়কে চুরি ডাকাতি রোধে। আমরা হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। গাড়ি আটকে পুলিশ চেকিংয়ের নামে হয়রানি করছে এমন কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমি ব্যবস্থা নেব। মহাসড়কের অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরাতে আমরা প্রায় সময়ই অভিযান পরিচালনা করে থাকি।