নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠকের সময় নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযানে নারীসহ ১০ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় র্যাব বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে দুটি মামলা করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী (৪৮), মোস্তাক আহাম্মদ (৬৬), মনিরুজ্জামান (২৪), সলিমুল্লাহ (২৭), মোসা. আসমাউল হোসনা (২৩), মো. হাসান (১৫), মোঃ আসমত উল্লাহ (২৪), মো. হাসান (৪৩), মোসা. শাহিনা (২২) ও মোসা. সেনোয়ারা (১৭)।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী ওরফে আতাউল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা আরসা প্রধান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১১ এর পৃথক দুটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ ও ১৭ মার্চ ময়মনসিংহের সদর থানা এলাকার নতুন বাজার গার্ডেন সিটি এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লিতে অভিযান চালায়। এসময় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তিন নারীসহ ১০ আরসা সদস্যকে আটক করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে নগদ ২১ লাখ ৩৯ হাজার ১০০ টাকা, একটি চাকু, ধারালো স্টিলের মোটা চেইন ও চারটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আটকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী ও অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে র্যাব বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে পাঠায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (নারী ও শিশু দমন ট্রাইবুনাল) খোরশেদ মোল্লা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লি থেকে আরসার একটি গ্রুপকে গ্রেপ্তার করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যমতে ময়মনসিংহ থেকে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তারা দুটি মামলায় আদালতে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ছয়জনকে দুই মামলায় পাঁচদিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুদ্দিন কাদিরের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় শুনানি দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।