মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হিমাগারে মজুদ করা কৃষকের আলুতে পচন ধরেছে। সেখানে মজুদ ৪৫ হাজার বস্তা আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শতাধিক কৃষক। এ অবস্থায় বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই হিমাগারে মজুদ কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা মূল্যের আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলার সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া গ্রামের নাহার কোল্ড স্টোরেজের কম্প্রেসার অচল হয়ে কৃষকের মজুদ করা আলুতে পচন দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওই হিমাগারে আলু মজুদ শুরু করেন। ৫৫ কেজি করে বস্তাবন্দি করে এখন পর্যন্ত হিমাগারের ভেতর ৪৫ হাজার বস্তা আলু মজুদ রয়েছে তাদের। এ ছাড়া ভেতরে মজুদের জন্য কমপক্ষে ১০ হাজার বস্তা আলু হিমগারের বাইরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই হিমাগারের গ্যাস লাইন অকেজো হয়ে কম্প্রেসার বিকল হয়ে পড়েছে। এতে ভেতরে মজুদ অন্তত ৩ কোটি টাকার আলুই পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা আরও জানান, কবে এ হিমাগারে যান্ত্রিক ত্রুটির শুরু-তা তাদের জানা নেই। তবে ১০ দিন আগে আলুতে পচন ধরার খবর পেয়ে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন হিমাগারে। সপ্তাহ খানেক ধরে চেষ্টা চালিয়েও হিমাগার সচল করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ হোসেন ঝন্টু জানান, তিনি ওই হিমাগারে ২ হাজার বস্তা আলু মজুদের জন্য আগাম বুকিং দিয়েছেন। ইতিমধ্যে হিমাগারের ভেতর ঢুকিয়েছেন ১ হাজার বস্তা আলু। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে হিমাগারের কম্প্রেসার চালু না হওয়ায় আমার সব আলুই পচে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। হিমাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।’
উপজেলার সন্তোষপাড়া গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, তার ২ হাজার বস্তা আলু পচে গেছে। তার মতো আরও অনেক কৃষকের আলু পচে যাচ্ছে। তিনি আলু পচে যাওয়ায় হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করেছেন। ওই হিমাগারে ৩১ বস্তা আলুবীজ মজুদ করেছেন উপজেলার চরনিমতলা গ্রামের কৃষক আম্বর আলী সরকার। তিনি জানান, তার আলুবীজের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
নাহার কোল্ড স্টোরেজের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার ইসরাত হোসেন বলেন, ‘লিকুইড গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে সেখানে বর্জ্য তৈরি হয়েছে। যার কারণে গ্যাস সঞ্চালন হচ্ছে না। এতে করে কম্প্রেসার চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা কম্প্রেসারের ১৫ লাখ টাকার পুরনো গ্যাস ছেড়ে দিয়েছি। নতুন করে ফের ১০ লাখ টাকার গ্যাস দিয়েছি। তাতেও কোনো কাজে আসছে না। ধারণা করা হচ্ছে এ সমস্যা সমাধানে অন্তত ২ মাস সময় লাগবে।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার হিমাগার কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়টি অবহিত করেছেন। আমি তাদের হিমাগারে যে সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত সমাধানে জন্য বলেছি। হিমাগারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তারপরও আমি তাদের দ্রুত মেরামতের কথা বলে যাচ্ছি। যাতে করে কৃষকরা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতিতে না পড়েন।’
প্রসঙ্গত : চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৮ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আলু মজুদে এখানে রয়েছে ১০টি হিমাগার। আর রাজদিয়া গ্রামের নাহার কোল্ড স্টোরেজে ২ লাখ বস্তা আলু মজুদের ধারণ-ক্ষমতা রয়েছে।