ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আউট সোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে পিপিআর বহির্ভূত টেন্ডার বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছে মেসার্স চুমকি এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারদের অভিযোগ, তাদের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও শর্তাবলি ঠিকঠাক থাকার পরও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিধিবহির্ভূতভাবে টেন্ডার পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সুপারিশ করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য ঠিকাদাররাও মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, যারা আবেদন করেছেন তাদের কেউই স্বৈরাচারের সমর্থক নন। বরং বেশিরভাগ আবেদনকারী বিএনপির সমর্থক। তাই এখানে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার চূড়ান্ত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বিধিবহির্ভূতভাবে টেন্ডার পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
শাহ আমানত ও চুমকি এন্টারপ্রাইজের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ মার্চ ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আউট সোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের জন্য দরপত্র গ্রহণ করা হয়। এতে মেসার্স চুমকি এন্টারপ্রাইজ ও শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ অংশগ্রহণ করে। পরে জানা যায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দরপত্রটি একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
মেসার্স চুমকি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল খায়ের লিংকন বলেন, ‘হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী দীর্ঘদিন ধরে আউট সোর্সিংয়ে কম লোক দিয়ে কাগজপত্রে বেশি দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। এবারও সেই সুবিধা নেওয়ার জন্য তার পছন্দের একটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে টেন্ডার পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ কারণে গত ১৯ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। একইসঙ্গে পিপিআর বহির্ভূত এই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানাই।’
ঢাকার ভ্যারিটাস লিমিটেডের প্রতিনিধি বেলাল হোসেন বলেন, ‘এখন অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই যোগ্য হলে লটারির মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তত্ত্বাবধায়ক এই নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করেছেন।’
কামাল উদ্দিন নামে অপর এক প্রতিনিধি বলেন, ‘ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এখানে স্বৈরাচারী কায়দায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করছেন। তিনি আরাফাত এন্টারপ্রাইজ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাদের নাম প্রস্তাব করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।’
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সম্পূর্ণ নিয়ম ভঙ্গ করে তত্ত্বাবধায়ক আগের মতো আওয়ামী স্টাইলে প্রতিষ্ঠান বাছাই করেছেন। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশে এগুলো মেনে নেওয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দরপত্রের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজের নাম সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখানে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সবকিছু বিবেচনা করা হয়েছে। ডিসি অফিসের একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’ তবে ডিসি অফিসের ম্যাজিস্ট্রেটের নাম জানতে চাইলে তিনি কারও নাম বলতে পারেননি।