প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়ে, যা বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছিল। তবে, পুলিশ জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আজ শনিবার থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।
জানা গেছে, গত গত বৃহস্পতিবার হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন লাগে। এতে শুক্রবার সকাল থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৭০ জন কর্মী কাজ করেন এবং সকাল ৮টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে প্রায় ১ লাখ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিমানবন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
হিথ্রো বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সীমিত আকারে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং শনিবার থেকে পুরোপুরি বিমান চলাচল শুরু হবে। তবে, পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে অগ্নিকাণ্ডটি কোনো নাশকতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা নয়। বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী থমাস উল্ডবাই জানান, ‘আমরা যাত্রীদের জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছি, তবে এই ধরনের বিভ্রাটের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
হিথ্রো বিমানবন্দর বিশ্বের পঞ্চম ব্যস্ততম বিমানবন্দর, যেখানে প্রায় ৮০টি দেশ থেকে উড়োজাহাজ চলাচল করে। প্রতিদিন এখানে ২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন, যা বছরে ৮ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছায়। কিন্তু গতকাল, বিদ্যুৎ সমস্যা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়, এর ফলে ১ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন, এবং অনেক ফ্লাইট ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়।