‘হিমবাহ সংরক্ষণ-২০২৫’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা পৃথিবীর সঙ্গে সাতক্ষীরা উপকূলের সাধারণ মানুষ সুশীলনের আয়োজনে পালন করছে বিশ্ব পানি দিবস। আজ শনিবার সকালে কালীগঞ্জের কাকশিয়ালী নদী উপকূলে শুরু হয় বিশ্ব পানি দিবসের আয়োজন। উপকূলের কলস ধর্মঘটের সমর্থনে শত শত নারী-পুরুষ-শিশু কাকশিয়ালী নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে খালি কলস।
আয়োজনের সভাপতি সাতক্ষীরার পানি আন্দোলনের নেতা সুশীলন পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান বলেন, পানির অপর নাম জীবন, জীবন রক্ষায় দরকার পানি। কিন্তু সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে পানির ভীষণ অভাব। সেই বিশুদ্ধ পানির দাবিতে উপকূলের নারী-পুরুষ নিরাপদ পানির দাবিতে নদী উপকূলে সড়কে খালি কলস উল্টে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কলসবন্ধনের পাশাপাশি খালি কলস ভাসানেরা মতো ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন তারা।
দিনব্যাপী এই পানি দিবসের আয়োজন করে সুশীলনসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সামাজিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন। পানি দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির উপজেলা সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম ও সৈয়দ মাহমুদ হাসান, ইউপি সদস্য শেখ খায়রুল আলম, দিপালী সরকার, খাদিজা খাতুন প্রমুখ।
পানি অধিকার আন্দোলনের প্রবীণ নেতা ও দুপ্রক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম বলেন, সাতক্ষীরার উপকূলে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ২২ পিপিটিরও বেশী যা সহনীয় ক্ষমতার দ্বিগুণ তাই উপকূলের মানুষরা বলছেন, ঝড়-ঝঞ্ঝা-জলোচ্ছাসের মতো দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে, কিন্তু পানযোগ্য পানির জন্য উপকূলবাসী সংগ্রাম করতে করতে আজ বড়ই ক্লান্ত।
সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, হিমবাহ ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করা হয়। এর জন্য গ্রিন হাউজ গ্যাসই মূল দায়ী। তাই গ্রিন হাউজ গ্যাস কমাতে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং হিমবাহ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে ও বেশী করে গাছ রোপণসহ রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।