বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে হলে বিভিন্ন ভাষা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখেন বলে বিদেশের উচ্চশিক্ষার ভাষা হিসেবে সাধারণত ইংরেজিকেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। বিশ্ব জুড়ে আইইএলটিএস ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা হিসেবে জনপ্রিয়। কীভাবে আইইএলটিএস-এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায় তা নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে জানিয়েছেন মারিয়া রিমা
বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, ব্যবসায়, শিল্প এমন নানবিধ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা সামষ্টিক চাহিদা মেটাতে ইংরেজি ভাষা জানার গুরুত্ব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন, ইংলিশ স্পিকিং কান্ট্রিতে মাইগ্রেট বা পেশাদার হিসেবে চাকরির আবেদনের প্রথম ধাপ হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং সেই পরীক্ষায় একটি মানসম্মত স্কোর অর্জন। International English Language Testing System (IELTS) ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যতম গ্রহণযোগ্য একটি মাধ্যম।
ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার জন্য আমরা ধাপে ধাপে কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি, আসুন তা নিয়ে আলোচনা করি।
দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে ইংরেজিকে যুক্ত করা
ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য আমরা ইংরেজি ভাষাকে দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত করতে পারি। এতে আমাদের আয়োজন করে ইংরেজি ভাষা শিখতে বসতে হবে না। বরং এমন একটি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করব যেখানে আলাদা করে সময় ব্যয় করতে হবে না।
আমরা কোনো বিষয় বিস্তারিত জানার জন্য সাধারণত ইউটিউবে সার্চ করি সে বিষয়ে কোনো ভিডিও আছে কি না তা জানার জন্য। সেক্ষেত্রে সার্চ অপশনে আমরা ইংরেজিতে লিখে সার্চ করব। বানান বা বাক্য গঠনে ভুল হলেও অটো কারেকশনে আমরা সঠিক বাক্যটি সার্চ অপশনে দেখতে পাব এবং আমরা সঠিক বাক্যটিকে ভালোভাবে দেখে নেব। এভাবে গুগল করতে গেলেও আমরা ইংরেজির কারেকশনগুলো মনে রাখার চেষ্টা করব। একটা সময় আমাদের ভুলগুলো সঠিক হতে থাকবে।
মুড চাঙ্গা করার জন্য আমরা সবাই কমবেশি তো গান শুনিই। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করব ইংরেজি গান শোনার জন্য। হয়তো কোনো একটি ইংলিশ গান আমাদের ভালো লাগছে। তাহলে তার লিরিকটা একটু দেখে নেব। এরপর যখন গানটা শুনব তখন আমরা শব্দগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব। তাতে আমাদের ইংরেজি ভাষা শোনার দক্ষতা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। একইভাবে, ইংরেজি ভাষার যে মুভিগুলো ভালো লাগছে সেগুলো দেখব, না বুঝলে সাবটাইটেল ফলো করব। মুভির অভিনয় শিল্পীরা শব্দগুলো কীভাবে উচ্চারণ করছে সেদিকে খেয়াল করব।
ইউটিউবে আমরা শর্টস ভিডিওগুলো তো দেখিই। সেক্ষেত্রে যার যে বিষয়ে আগ্রহ সে সেই বিষয় সম্পর্কিত ইংরেজিতে বানানো শর্টস দেখব। যেমন : ফুড রিভিউস, প্রোডাক্ট রিভিউস, ব্লগস প্রভৃতি। আমরা তাদের শব্দ, বাক্য, উচ্চারণের কৌশল আয়ত্ত করার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আরও সাহায্য করতে পারে, ইংরেজি পডকাস্ট শোনা বা টিভি প্রোগ্রামগুলো দেখা। সেটা হতে পারে রিয়েলিটি শো, সেলিব্রেটি ইন্টারভিউÑ মোটের ওপর আমি যে বিষয়ে আগ্রহী তাই দেখব। তাহলে শেখার প্রক্রিয়াটি মনের ওপর চাপ ফেলবে না।
একইভাবে আমরা যারা বই পড়তে ভালোবাসি, পছন্দের বিষয়ের ইংরেজি বই সংগ্রহ করে আমরা পড়ব। বাক্য গঠনগুলো খেয়াল করব। বিশেষ করে বাক্যে গ্রামারের ইউজ খেয়াল করব এবং প্রয়োজনে ইংরেজি গ্রামারকে আরেকবার রিভাইস করব। প্রয়োজনে গ্রামার বিষয়ে বইয়ের সাহায্য নেব।
ওঊখঞঝ পরীক্ষার ফরম্যাট সম্পর্কে জানুন
ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের সেকশন চারটি : লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং, স্পিকিং। পরীক্ষা পদ্ধতি দুভাবে দিতে পারবেন। পেপার বেইজ, কম্পিউটার বেইজ। তবে আমাদের দেশে পেপার বেইজই জনপ্রিয় মাধ্যম। রিডিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর লেখা বা টিক দেওয়া কষ্টসাধ্য হতে পারে। তবে কম্পিউটার বেইজে পরীক্ষা দিলে কোনো একটা সেশনে যদি আপনি কাক্সিক্ষত ফলাফল না পান শুধু সেই সেকশনটি আপনি আবার দেওয়ার সুযোগ আছে। তাতে পুরো খরচ বহন করতে হয় না। এই সুযোগটি পেপার বেইজ পরীক্ষা পদ্ধতিতে নেই। এছাড়াও কম্পিউটার বেইজে পরীক্ষার শিডিউল যেকোনো সময় সহজে পাওয়া যায় পেপার বেইজের তুলনায়।
পরীক্ষার সেকশনগুলো সম্পর্কে জানুন
কেমব্রিজ আইইএলটিএস বই পাওয়া যায় বাজারে। সেখানে বিস্তারিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। অথবা কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলে তারা আপনাকে বুঝিয়ে দেবে। অনলাইনে, ইউটিউবে প্রচুর ম্যাটেরিয়াল পাবেন। যারা উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে বিদেশে যেতে চান তাদের অ্যাকাডেমিক আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা ইংলিশ স্পিকিং কান্ট্রিতে মাইগ্রেট বা পেশাদার হিসেবে যেতে চান তাদের আইইএলটিএস জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
লিসেনিং
সময় ৩০ মিনিট (পেপার বেইজে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় উত্তর লেখার জন্য, কম্পিউটার বেইজে অতিরিক্ত কোনো সময় থাকে না)।
রিডিং
সময় ৬০ মিনিট, উত্তর লেখার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় না। অ্যাকাডেমিক আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৩টি প্যাসেজ থাকে। জেনারেল ট্রেনিংয়ে ৩টি সেকশন থাকে তবে ৪/৫টি ছোট বড় মিলিয়ে বিষয়বস্তু সংযুক্ত থাকে।
রাইটিং
সময় ৬০ মিনিট। টাস্ক ওয়ানে লিখতে হবে কমপক্ষে ১৫০ শব্দ। অ্যাকাডেমিকে বিষয়বস্তু : বার চার্ট, লাইন গ্রাফ, টেবিল, ডায়াগ্রাম, ম্যাপ প্রভৃতি। জেনারেল ট্রেনিং টাস্ক ওয়ান- লেটার রাইটিং : পার্সোনাল, সেমি-ফরমাল বা ফরমাল। টাস্ক টু : অ্যাকাডেমিক এবং জেনারেল ট্রেনিং একই টপিকের ওপর কমপক্ষে ২৫০ শব্দ লিখতে হবে। কোনো বিষয় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে, সমস্যা-সমাধান, সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এই টাস্কের টপিক হয়ে থাকে।
পেপার বেইজ পরীক্ষা পদ্ধতির রাইটিং সেকশনে আগে কলম ব্যবহারের পাশাপাশি চাইলে পেনসিল ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নতুন নিয়মে এই সুযোগটি আর থাকছে না। পরীক্ষার্থীকে কলম দিয়েই উত্তর লিখতে হবে। ফলে ভুল হলে
সেটি মুছে সঠিক উত্তর লেখার সুযোগ আর থাকছে না।
স্পিকিং
পার্ট ওয়ান : সময় ৪-৫ মিনিট, প্রশ্ন করা হবে আপনার নিজের সম্পর্কে, পরিবার, লাইফস্টাইল, আপনার শখ, ছোটবেলার স্মৃতি, আপনার দেশ প্রভৃতি সম্পর্কে। পার্ট টু : একটি টপিক দেওয়া হবে ব্যক্তি, স্থান, ঘটনা প্রভৃতি সম্পর্কে। আপনার প্রস্তুতির জন্য ১ মিনিট সময় দেওয়া হবে এবং আপনাকে টপিক নিয়ে বলার জন্য সময় নির্ধারিত থাকবে ১-২ মিনিট। পার্ট থ্রি : টপিকের ওপর বেইজ করে ডিসকাশন সেশন ৪-৫ মিনিট। পার্ট থ্রিয়ের প্রশ্নের উত্তরগুলো বিস্তারিত হতে হয় (এবং পরীক্ষক এখানে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা শুনতে চান)।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিল অথবা আইডিপি যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। পরীক্ষার প্রস্তুতি কখন নেবেন তা আপনার শেখা, চর্চা এবং সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। সাধারণত মিনিমাম সময় ৩ মাস ধরা হয় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে। আপনার ক্ষেত্রে যদি এই দক্ষতা অর্জনে ১ বছর সময় লাগে ততদিন পর্যন্ত সময় নেবেন। বিভিন্ন মক টেস্টে অংশগ্রহণ করে নিজের অবস্থান যাচাই করে নেবেন। স্পিকিংয়ে সাবলীল হওয়ার জন্য এখন অনলাইন প্লাটফর্ম আছে। সেখানে ইংরেজিতে কনভারসেশন করার সুযোগ পাচ্ছেন একজন পার্টনারের সঙ্গে। নিজের দুর্বলতাগুলো ফোকাস করবেন। প্রতিটি সেকশনে কিছু টিপস এবং ট্রিক্স আছে সেগুলো জেনে নেবেন। ইউটিউব, অনলাইন, কোচিং সেন্টার থেকে টিপস এবং ট্রিক্সগুলো আয়ত্ত করবেন। হতাশ হওয়া যাবে না। সেøা অ্যান্ড স্টেডি গতিতে আগাবেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবেন। মনে রাখবেন আইইএলটিএস ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম মাত্র।