১৬ বছরে ভোট ২৩ বছরে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব করবে এনসিপি

অন্তর্র্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে আজ রবিবার প্রাথমিক সংস্কার প্রস্তাব জমা দেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।  সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৩ বছর এবং ভোটার হওয়ার বয়স ১৬ বছর করার প্রস্তাব দেবে দলটি। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক সারোয়ার তুষার।

সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন চায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর। এনসিপি মনে করে, এটা খুবই কম বয়স। এটা ২৩ বছর হতে পারে। আজ (রবিবার) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার সুপারিশমালা জমা  দেওয়া হবে। সেখানে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স ২৩ বছর করার প্রস্তাব করবে এনসিপি।’ তিনি বলেন, ‘এনসিপি মনে করে, ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে এবারের আন্দোলনে প্রায় সারা বিশ্বে এটাকে  জেন-জির অভ্যুত্থান হিসেবে বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থানপরবর্তী যে বাংলাদেশ এবং আসন্ন যে নির্বাচন, এ নির্বাচনে তারা (জেন-জি) মতামত দিতে পারবে না শুধু বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ার কারণে, এটা এনসিপি যৌক্তিক মনে করে না। এনসিপি ১৬ বছর বয়স থেকে ভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দেবে।’

‘সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশ এবং গণপরিষদ অথবা কিংবা গণপরিষদ হিসেবে নির্বাচিত আইনসভা সংসদ-দুটি পদ্ধতিতে এনসিপি থাকছে’ এমনটা জানিয়ে তুষার বলেন, ‘যে সব সংশোধনীর ক্ষেত্রে সংবিধানের কোনো সম্পর্ক নেই,  সেগুলো নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশ কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে করা যেতে পারে। আমরা শুরু থেকে বলেছি, গণতান্ত্রিক সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর্লেখন চাই। যার জন্য চাই গণপরিষদ নির্বাচন।’ তিনি বলেন, ‘একটি বক্তব্য দেখেছি কমিশনের কাছে ১৬৬টি সুপারিশের মধ্যে ১১১টি সুপারিশ কোনোরকম সংলাপ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা যাবে বলে মনে করছে। আমরা জানতে চাইব, কীসের ভিত্তিতে আলোচনা ছাড়া ১১১টি বাছাই করলেন। কারণ  সেখানে অনেক বিষয়ে গ্রেটার আলোচনার সুযোগ আছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার এবং পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব কেন স্পেডশিটে নেই, এটা আমরা জানতে চাইব।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্পষ্টতই তারা ভারতের এজেন্ট, তারা (আওয়ামী লীগ) কোনো আন্দোলন শুরু করলে একে প্রকৃত আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দেব না আমরা। তারা শুধু দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এসব করবে।