দুমকিতে চুরির অপবাদে দম্পতিকে মারধর

পটুয়াখালীর দুমকিতে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ওই গৃহবধূ গত শনিবার সাংবাদিকদের জানান, মাসখানেক আগে জিয়াউর রহমান তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় দুই সপ্তাহ আগে কথিত মোবাইল চুরির সালিশ বসিয়ে তার স্বামীর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন জিয়া। এর প্রতিবাদ করায় জিয়া ও তার স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা গৃহবধূ ও তার স্বামীকে গত শনিবার সন্ধ্যায় বেধড়ক মারধর করেন। পরে স্বজনরা এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গৃহবধূ আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অভিযুক্তদের নামে মামলা দিতে চাইলে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ। বরং তার (গৃহবধূ) স্বাক্ষর নিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিয়াউর রহমানের কুপ্রস্তাব দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ‘কিছুদিন আগে জিয়াউর রহমান ফোন দিয়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বর্তমানে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে আর আমার স্বামীকে মারধর করেছেন।’

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।’

অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চুরির কারণেই তাদের মারধর করা হয়েছে।’ ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা তো প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ওরা খারাপ বলেই এখন সেই রেকর্ড ভাইরাল করছে।’

পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিলন বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুমকি থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, চুরির ঘটনায় মারধর করার অভিযোগ পেয়েছি। তবে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাবের বিষয়ে কিছু জানা নেই। ভুক্তভোগী মামলা দিলে চাইলে তা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।