সহায়তা-নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউক্রেনের মিত্রদের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগর ও একে অন্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আর এটি বাস্তবায়িত হলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রথমবারের মতো স্বল্প পরিসরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে অঞ্চলটিতে। এর পাশাপাশি কিয়েভে নতুন সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বৈঠক করেছে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো। বৃহস্পতিবার প্যারিসে প্রায় ৩০ নেতার উপস্থিতিতে ইউক্রেনের অবস্থান শক্তিশালীকরণ এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হলে তাদের ভূমিকা কী হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ফ্রান্স ইউক্রেনকে ২ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। তবে রাশিয়া কৃষ্ণসাগর ও জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে নতুন শর্ত যুক্ত করেছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ মনে করছে, শান্তি চুক্তি এখনো দূরের বিষয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া এ বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ২ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বৈঠকের একটি খসড়া দলিলে ইউক্রেনে ‘রিঅ্যাশিউরেন্স ফোর্স’ মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এ বাহিনী যুদ্ধে অংশ না নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আগ্রাসন প্রতিরোধ করবে। মাখোঁ বলেন, ইউক্রেনকে স্থায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।