মানুষ তার সঙ্গেই আলোচনায় যোগ দেয় যাকে সে বিশ্বাস করে, কথা বলে আরাম পায়। কিছু সহজ কৌশল অনুশীলন করেই আপনি অসামাজিক অপবাদ ঘুচিয়ে অপরের আলাপের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিশ্বস্ত সঙ্গী হতে পারেন। লিখেছেন লিজা হক
আলাপ সঙ্গীর প্রতিবিম্ব হন : সাধারণত মানুষ তাকেই পছন্দ করে বা বিশ্বাস করে, যাদের সঙ্গে তাদের মিল খুঁজে পায়। এ জন্য যেকোনো কথোপকথনের সময় যে মানুষটি কথা বলছেন তার প্রতিবিম্ব অর্থাৎ তার কিছু আচরণের অনুসরণ করুন। অর্থাৎ তিনি যদি আপনার দিকে ঝুঁকে কথা বলেন তবে আপনি কিছুটা তার প্রতি ঝুঁকে মনোযোগের সঙ্গে তার কথা শুনুন। তার কথার শেষ কয়েকটি শব্দ পুনঃউচ্চারণ করুন। কিন্তু এটির পরিমাণ বেশি ও অন্যমনস্কভাবে এই অনুশীলন করলে অপর ব্যক্তি আপনার আচরণকে তার প্রতি কৌতুক হিসেবে নিতে পারেন। তাই ভান নয়, তার কথা আন্তরিকভাবেই মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা করুন।
একই ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন : কোনো কথোপকথন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে যায় যদি উভয় ব্যক্তি বা পক্ষই সেই আলাপে যুক্ত থাকে। সে ক্ষেত্রে অপর ব্যক্তি যখন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেন তখন ছোট ছোট দু-এক কথায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে আপনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন।
নামে ডাকুন : যদি প্রশ্ন করা হয় মানুষের সবচেয়ে পছন্দের শব্দটি কী, তাহলে সম্ভবত নিজের নাম সবচেয়ে ওপরে থাকবে। প্রতিটি মানুষ তার নাম বা উপাধিকে ভালোবাসে। তাই কথোপকথনে তাকে সম্বোধন করতে তাকে নামে ডাকুন। তবে সংখ্যাটি খুব বেশি বা কম হওয়া চলবে না।
হ্যাঁ বা না দিয়ে উত্তর দেওয়া যায় না এমন প্রশ্ন করুন : কথোপকথন চালিয়ে নিতে প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রশ্নের উত্তর যেন বর্ণনামূলক হয়, হ্যাঁ বা না দিয়ে বা এক কথায় উত্তর দেওয়া যেন সম্ভব না হয়। যেমন আপনার পছন্দের কাজ কী? এই প্রশ্নের পরিবর্তে জিজ্ঞেস করতে পারেন, আপনি অস্থিরতা কাটান কীভাবে?
অন্যের মতামত জিজ্ঞেস করুন : কোনো কথোপকথনে যদি আপনিই মূল বক্তা হয়ে থাকেন তাহলে আলোচনা প্রাঞ্জল করে তোলার দায়িত্বও আপনার। সেক্ষেত্রে আলোচনায় অন্যরাও যথেষ্ট অবদান রাখতে পারছে সেটি নিশ্চিতের দায়িত্বও আপনার। সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ সমাপ্ত হওয়ার পরে অন্যদের মতামত জিজ্ঞেস করতে পারেন। এতে উভয় পক্ষের জড়তা কাটবে। কথোপকথনের উদ্দেশ্য সফল হবে।
হাসিতে ভনিতা রাখবেন না : হাসিমুখ মানুষকে ভরসা দেয়। হাসিমুখ আন্তরিকতা প্রকাশ করে। তাই কথোপকথনের সময় হাসিমুখ ধরে রাখুন। তবে এই হাসি যেন ভনিতা না হয়। আলাপের যৌক্তিকতা ও আন্তরিকতা অনুভব করলে সমগ্রসত্তা অর্থাৎ মুখমণ্ডল, চোখ, অবয়ব সমগ্রসত্তা দিয়ে হাসতে পারবেন।