বিশ্ব জুড়ে শিশুদের ঈদ উদযাপন

ঈদুল ফিতর মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এক মাস জুড়ে রোজা পালনের পর এই ঈদ আসে বলে ছোট-বড় সবার কাছে ঈদুল ফিতর ভীষণ আদরণীয়। বিশ্ব জুড়ে শিশুরা তাদের দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকে। লিখেছেন এজাজ পারভেজ  

সৌদি আরব

সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় ভীষণ জাঁকজমকের সঙ্গে। সেই সঙ্গে এটিও খেয়াল রাখা হয় যেন অসচ্ছল ও সাধারণ মানুষ যেন ঈদের আনন্দ লাভ করতে পারে। সে জন্য তারা বাজার থেকে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়েও বেশি চাল কিনে আনেন এবং অতিরিক্ত চাল দরজায় বাইরে রেখে দেন যেন যাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত চাল নেই তারাও সেখান থেকে নিয়ে ঈদের দিনে বিশেষ খাবার রান্না করতে পারে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সৌদি আরবের অধিবাসীরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করে। রোজার শেষে এই ঈদে তারা আত্মীয়, পরিজন সবাই একত্রিত হয় এবং একসঙ্গে খাবার ও মিষ্টান্ন খেয়ে দিনতি উদযাপন করে। এ দিনে পরিবারের শিশুরা বড়দের কাছ থেকে নানা রকম মিষ্টান্ন উপহার পায়। পরিবারের বয়োবৃদ্ধদের হাত চুম্বন করে তাদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে।

তুরস্ক

ঈদের দিনে মিষ্টি খাওয়া ও খাওয়ানোর ঐতিহ্য রয়েছে তুরস্কে। এ জন্য ঈদের দিনকে তারা বলে ‘সেকার বেরামি’ বা মিষ্টির উৎসব। শিশুরা এ দিনে দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এ দিনে তাদের খেতে দেওয়া হয় ‘টার্কিস ডিলাইট’, ‘বাকলাভা’ নামের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। শিশুদের আনন্দের জন্য শহর ও গ্রামের নানা জায়গায় আয়োজন করা হয় ‘শ্যাডো পাপেট শো’। বয়োজ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠদের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটে হাত চুম্বনের মাধ্যমে। শিশুরা এ দিনে বয়োজ্যেষ্ঠদের হাত চুম্বন করে সুখ, সমৃদ্ধি ও আয়ু কামনায়।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে ঈদ উদযাপিত হয় নিজস্ব ঐতিহ্য অনুসারে। এ দিনে তারা অতিথিদের মিষ্টান্ন দিয়ে স্বাগত জানান। এই দিনে দেশের পুরুষরা ফাঁকা ময়দানে মিলিত হয়ে খেলেন একটি বিশেষ খেলা। এই খেলায় একে অপরের দিকে তারা সেদ্ধ ডিম ছুড়ে দেন। এই খেলাটি তাদের কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, যুদ্ধের সময়ও তারা এ খেলা থেকে বিরত ছিল না। শিশুরা ঈদুল ফিতরে প্রতিবেশীদের বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ও খাবার খায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সংযুক্ত আরব আমিরাতের

রাস্তাগুলো ঈদুল ফিতরের সময় রঙিন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও প্রদর্শনী। দোকানগুলোতে থাকে অভাবনীয় ছাড়। রাস্তায় সাকার্সের জোকার, রণ-পা প্রিহিত বাজিকর, নৃত্যশিল্পী ও ভাঁড় তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শক ও শিশুদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে। বেলুনওয়ালারা রঙবেরঙের বেলুন সাজিয়ে বসে থাকে শিশুদের জন্য।

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়াতে ঈদের দিনে সবার বাড়ি থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত। এ দিনে যে কেউ যে কারও বাড়িতে প্রবেশাধিকার পায় বলে আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এ দিনে সারা বছরের তিক্ততা ভুলে সবাই আবার নতুন করে আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এ দিনে প্রতিটি বাড়িতে রান্না হয় মুখরোচক খাবার। শিশুরা আতশবাজি, পটকা প্রভৃতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করে থাকে। তাদের আতশবাজিতে রাতের আকাশ আলোকময় হয়ে ওঠে।