আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান সূচিকে ‘বিশৃঙ্খল ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে এর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে খেলাটি আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউসিএ উল্লেখ করেছে যে, আইসিসির ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব’ বিশ্ব ক্রিকেটকে অগোছালো করে তুলেছে। এই প্রতিবেদনের জন্য সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলারসহ ৬৪ জন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতামত নিয়েছে।
ডব্লিউসিএ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য উয়েফা নেশনস লিগের আদলে একটি প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী, তিন ফরম্যাটেই দলগুলোকে সর্বোচ্চ আটটি দলের বিভক্তি করে ডিভিশনে ভাগ করা হবে। দুই বছরের চক্রে প্রতিটি দল অন্তত একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হবে, যাতে থাকবে প্রোমোশন, রেলিগেশন ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের যোগসূত্র।
এতে বর্তমানে প্রচলিত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) কাঠামো বদলে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতিটি দল একই চক্রে একে অপরের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায় না, ফলে জটিল পয়েন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। গত বছর ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস এই পদ্ধতিকে ‘অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
ডব্লিউসিএ বছরে চারটি নির্দিষ্ট উইন্ডোর প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক সিরিজগুলো আয়োজন করা হবে। প্রতিটি উইন্ডো হবে ২১ দিন দীর্ঘ, যা পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য যথেষ্ট নয়। এই সময়টাতে কোনো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ না রাখার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ওপর জাতীয় বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ কমানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি বাধ্যতামূলক ‘প্লেয়ার-রিলিজ মেকানিজম’ চালুর আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউসিএ।
ডব্লিউসিএ আইসিসির রাজস্ব বণ্টন নীতিতেও পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। বর্তমানে ভারতের একাই আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৪০% পায়, আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত মিলে আয় করে ৮৭%। সংগঠনটি বলছে, প্রতিটি দেশের রাজস্বের অংশ সর্বোচ্চ ১০% হওয়া উচিত, আর ছোট দলগুলো যেন অন্তত ২% পায়। যদি বোর্ডগুলো রাজস্ব ভাগাভাগিতে সম্মত না হয়, তবে ‘একটি নতুন বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামো’ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যা আয় সমানভাবে বণ্টন নিশ্চিত করবে।
ডব্লিউসিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান কাঠামো সাময়িকভাবে বড় দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করলেও দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির প্রসার বাধাগ্রস্ত করছে। সমতা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, প্রতিভার গভীরতা বাড়বে এবং আরও বেশি দেশ প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে।’
এই প্রস্তাব বিশ্ব ক্রিকেট প্রশাসকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে আইসিসির পুরুষদের ক্রিকেট কমিটির সঙ্গে ডব্লিউসিএর বৈঠক উত্তপ্ত হয়েছে, আর বৃহস্পতিবার নারীদের কমিটির সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা।
তবে খেলোয়াড়দের সংগঠন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আরও সংগঠিত, প্রতিযোগিতামূলক ও অর্থবহ করতে তারা পরিবর্তন চায়। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি ও জাতীয় বোর্ডগুলো এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়।