বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে আগের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপলকে স্বপদে রেখে অ্যাডহক কমিটি করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যা দেখে বেঁকে বসে ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারে গঠিত সার্চ কমিটি, পদত্যাগের হুমকি দেন সদস্যরা। তাতেই ভিত কেঁপে গেছে ক্রীড়া পরিষদের। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চপলকে ডিমোশন দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ। সেটা আবার গোপনও রাখে সংবাদমাধ্যমে। শুক্রবার এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিষদ সচিব সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের কপি পাঠিয়ে দেন এ প্রতিবেদককে। যেখানে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাবেক খেলোয়াড় ও আন্তর্জাতিক জাজ তানভীর আহমেদকে। আর চপলকে রাখা হয় এক নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে। এ নিয়ে অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি আরচারিকে এ দেশে প্রচলন ঘটানো এ বর্ষীয়ান সংগঠক।
আজ আরও দুই ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি প্রকাশ করেছে। আজ সন্ধ্যার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম এনডিসি বক্সিং ও উশু ফেডারেশনের বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটির আদেশ জারি করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইন ২০১৮ অনুসারে।
এই দুই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করা দুই জন। বক্সিংয়ে এমএ কুদ্দুস খান ও উশুতে দিলদার হোসেন দিলু পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার পেয়েছেন। বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও ক্রিকেট দলের সাবেক ম্যানেজার লে. কর্নেল আব্দুল লতিফ খানকে (অবসর)। দুই ফেডারেশনের কমিটিই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট। সাবেক খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন হয়েছে।
এ নিয়ে ২৪টি ফেডারেশনের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ। বেশিরভাগ ফেডারেশনেই নির্বাহী পদে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দীর্ঘ পাঁচ দশক সাধারণ সম্পাদকের পদ আকড়ে রাখা বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ তাবিবুর রহমান পালোয়ান, প্রায় তিন যুগ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আসাদুজ্জামান কোহিনুর, আলোচিত ফোরাম নেতা ও ভলিবল ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুকে অপসারণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন মুখ বসিয়েছে সরকার। আবার বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ সম্পাদক শুরুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে টানা কাজ করা উইং কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আহমেদকে সরকার ঠিক রেখে দেয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি করে। তবে চপলকে নির্বাহী প্রধান করেই অ্যাডহক কমিটি করেছিল সরকার। কিন্তু কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই ক্রীড়া পরিষদ সিদ্ধান্ত বদলে চপলকে ডিমোশন দিয়েছে।
এ দেশে আরচারির প্রচলন ঘটানো, পরে খেলাটিকে সম্ভাবনার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক অবদান রয়েছে বিশ্ব আরচারির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা চপলের। তার নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় পরপর দুটি অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশের দুই আরচার। এ ছাড়া সর্বশেষ ২০১৯ এসএ গেমসে আরচারির ১০ ইভেন্টের ১০ স্বর্ণপদকই জিতে নিয়েছিলেন আরচাররা। সাংগঠনিকভাবে চপলের বড় কৃতিত্বের জায়গা হলো খেলাটির জন্য একটি স্থায়ী পৃষ্ঠপোষক নিশ্চিত করা। তার চেষ্টাতেই সিটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে আরচারি নিয়ে।
বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি করতে গিয়ে এর মধ্যেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সার্চ কমিটির মধ্যে বিভক্তিটা প্রকাশ পেয়েছে। যার সবশেষ উদাহরণ আরচারি ফেডারেশন নিয়ে ঘটে যাওয়া সার্কাস।