চপলকে রেখেই আর্চারির কমিটি, তবে...

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৬ এএম

কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল নিষ্ঠার পুরস্কার পেয়েছেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও তাকে এ পদ থেকে সরায়নি সরকার। বরং তাকে স্বপদে বহাল রেখে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যার সভাপতি করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমানকে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর অবশ্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার আনতে গঠিত সার্চ কমিটি বেঁকে বসেছিল। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করে, সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত কমিটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ঘোষিত কমিটি এক নয়। সার্চ কমিটি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে তিনটি ফেডারেশনের নতুন কমিটির প্রজ্ঞাপন ঘোষণার প্রতিবাদে গতকাল বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল সার্চ কমিটি। গুঞ্জন ছিল কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করবেন। পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে সার্চ কমিটি সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে।

এ নিয়ে ২৪টি ফেডারেশনের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ। বেশিরভাগ ফেডারেশনেই নির্বাহী পদে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দীর্ঘ পাঁচ দশক সাধারণ সম্পাদকের পদ আকড়ে রাখা বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ তাবিবুর রহমান পালোয়ান, প্রায় তিন যুগ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আসাদুজ্জামান কোহিনুর, আলোচিত ফোরাম নেতা ও ভলিবল ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুকে অপসারণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন মুখ বসিয়েছে সরকার। আবার বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ সম্পাদক শুরুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে টানা কাজ করা উইং কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আহমেদকে সরকার ঠিক রেখে দেয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি করে। তবে চপলকে নির্বাহী প্রধান করেই অ্যাডহক কমিটি করেছে সরকার। এ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি হচ্ছে সমালোচনাও। তবে এটা মানতেই হবে, এ দেশে আর্চারির প্রচলন ঘটানো, পরে খেলাটিকে সম্ভাবনার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক অবদান রয়েছে বিশ্ব আর্চারির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা চপলের। তার নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় পরপর দুটি অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশের দুই আর্চার। এ ছাড়া সর্বশেষ ২০১৯ এসএ গেমসে আর্চারির ১০ ইভেন্টের ১০ স্বর্ণপদকই জিতে নিয়েছিলেন আর্চাররা। সাংগঠনিকভাবে চপলের বড় কৃতিত্বের জায়গা হলো খেলাটির জন্য একটি স্থায়ী পৃষ্ঠপোষক নিশ্চিত করা। তার চেষ্টাতেই সিটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে আর্চারি নিয়ে। যদিও অ্যাডহক কমিটিতে রাখা হয়নি সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসানের। তবে প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের অন্যতম শীর্ষ কর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদকে করা হয়েছে সহসভাপতি। সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে ইমদাদুল হক মিলন, রুবেল, তানভীর রয়েছেন কমিটিতে।

সাধারণ সম্পাদকের পদে টিকে যাওয়া চপল বলেন, ‘দেখুন আমি এই খেলাটাকে এ দেশে প্রচলন ঘটিয়েছি। তারপরও সরকার যদি মনে করত আমি আর এই পদে যোগ্য নই, নতুন কাউকে দিত। আমার বলার কিছু থাকত না। আর পরীক্ষিতদের তো এর আগেও রাখা হয়েছে। স্কোয়াশের সাধারণ সম্পাদককেও তো স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। আমার বেলায় কেন প্রশ্ন উঠবে?’

এদিকে খো খো ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এএইচএম জিয়াউল হককে। তবে দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবুলকে সরিয়ে এই পদটি দেওয়া হয়েছে সাবেক খেলোয়াড় কায়সার সাদিক সজীবকে। বেসবল সফটবল অ্যাসোসিয়শনে সাবেক আমলা আফজালুর রহমানকে সভাপতি ও সাবেক বেসবল খেলোয়াড় তালহা জুবায়েরকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে ক্রীড়া পরিষদের এখন পর্যন্ত দেওয়া ২৪টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের কমিটির অনেকগুলোই সার্চ কমিটির সুপারিশের সঙ্গে মিলছে বলে জানা গেছে। এসব কিছু নিয়েই বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। যেখান থেকে আসতে পারত দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণাও। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টার আশ্বাসে সংবাদ সম্মেলন করেনি জুবেদুর রহমান রানার নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত