নেপালে বিলুপ্ত রাজতন্ত্র পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক সাংবাদিকসহ দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৫ জন। গত শুক্রবার নেপালের গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র দীনেশ কুমার আচার্য রয়টার্সকে জানান, নিহত দুজনের মধ্যে একজন বিক্ষোভকারী এবং অপরজন সাংবাদিক ছিলেন। পুলিশের আরেক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা একটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া, তিন বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার নেপালের রাজধানীতে রাজতন্ত্রবিরোধী আরেকটি পৃথক বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। তবে সেটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ত্রিভুবন টিচিং হাসপাতালের ডা. মোহন চন্দ্র রেগমি গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের হাসপাতালে যাওয়া আহত বিক্ষোভকারীদের পাঁচজনের কোমরের নিচে গুলি লেগেছে। তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। জাতীয় ট্রমা সেন্টারের পরিচালক বদ্রি রিজাল জানান, তারা গুলিবিদ্ধ দুজনকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
কাঠমান্ডু ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪.২৫ মিনিটে রাজধানীর কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়, যা শনিবার সকাল ৭টায় তুলে নেওয়া হয়। বিক্ষোভে ঘরবাড়ি ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১০৫ জন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তের সিদ্ধান্তের জন্য ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে নেপাল হিন্দু রাজ্য থেকে ধর্মনিরপেক্ষ ফেডারেল প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে নেপালের শেষ রাজা ৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর বাড়িতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে গত ১৬ বছরে নেপালে ১৪টি সরকার গঠন হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধীরগতির কারণে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।